কারা হচ্ছেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ-হুইপ নিয়েও গুঞ্জন

সরকারদলীয় উপনেতা পদে আলোচনায় ৩ শীর্ষ নেতা

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫৮

গাজী শাহনেওয়াজ
ama ami

আগামী পাঁচ বছরের জন্য সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে সর্বত্র চলছে জোর গুঞ্জন। কে হবেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার। আর কারা হবেন হুইপ এবং চিফ হুইপ। আলোচনায় উঠে এসেছে অনেকের নাম। এর মধ্যে বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বর্তমান ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে।

এর বাইরে ডেপুটি স্পিকার পদে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত ফখরুল ইমামের নামও শোনা যাচ্ছে। আর সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে বর্তমান আ স ম ফিরোজের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য নূর ই আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) পক্ষে একটা জনমত তৈরি হয়েছে। তবে কার ভাগ্য প্রসন্ন হবে সেটা জানতে চলতি মাসটি অপেক্ষা করতে হবে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ জানুয়ারি।

এছাড়া মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির অনেক নেতা রয়েছে এবারের সংসদ অভিভাবক হওয়ার তালিকায়। জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ নেতা ও উপনেতা নির্বাচন করেছেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই বিরোধী দলীয় সংসদ নেতা এবং তারই সহোদর পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বিরোধী দলীয় উপনেতা হন। এর বাইরে সরকার দলীয় উপনেতা কে হচ্ছেন এ নিয়ে চলছে আলোচনা। আলোচনায় কখনো মতিয়া চৌধুরী নাম, সময়ে সময়ে বঙ্গবন্ধুর সানিধ্যে থাকা তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর নামও শোনা যাচ্ছে। তবে জনমত জরিপে সরকারি দলের উপনেতা হিসেবে বেশি আলোচনায় তোফায়েল আহমেদ।

এদিকে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় পুরনো বেশির ভাগ সদস্য বাদ পড়ায় তাদের সম্মানার্থে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রাখার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে আছে। সেই অর্থে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদগুলোতে সাবেক মন্ত্রীদের আসার সম্ভাবনা বেশি।

সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যদার প্রধান হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার হুইপ পদে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদ নেতার দেওয়া তালিকাই (সরকারি দল সংসদ সদস্য) অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি। আর সংসদের অপর দুই ভিআইপি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা সরাসরি ভোটে দিয়ে থাকেন। এরই মধ্যে বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে পুনর্নির্বাচিত হচ্ছেন এমনটাই আভাস দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই দিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। শোক প্রস্তাবের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এরপর নতুন স্পিকার শপথ গ্রহণের পর আবারো মুলতবি অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্পিকার পদে পরিবর্তন না এলেও ডেপুটি স্পিকার পদে পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ, সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ ও বর্তমান প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজের এই পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বহাল থাকতে পারেন বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

তবে টানা দুইবার হ্যাটট্রিকসহ সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের প্রধান হুইপ পদে থাকার সম্ভাবনা এবার ক্ষীণ। তার জায়গাতে অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সবেক হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীর আসার সম্ভাবনা বেশি। এর বাইরে ইকবালুর রহিম আলোচনায় রয়েছেন। এই পদের জন্য প্রবীণ সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, সিমিন হোসেন রিমি ও সাইফুজ্জামান শিখর আলাচনায় আছেন।

তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এই সংসদে আওয়ামী লীগের বাইরে থেকেও হুইপ নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় না রাখলেও ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ থেকে হুইপ নিয়োগের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা ও জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিণ আক্তার আসতে পারেন। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও এরই মধ্যে ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি একটি হুইপের পদ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নেতার প্রস্তাব অনুসারে প্রধান হুইপ ও হুইপ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর সরকার ও বিরোধী দলের দুই প্রধান হুইপের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদের অধিবেশন কক্ষের আসন বণ্টনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ৩০ জানুয়ারির আগে এটা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পিডিএসও/হেলাল