বার্ষিক সাধারণ সভায় বিআইপি

‘উপজেলা ও ইউনিয়নের মধ্যে উন্নয়ন করতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন’

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৪

হাসান ইমন
ama ami

পরিকল্পনাবিদরা বলেছেন, দেশের সকল উপজেলাভিত্তিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল গ্রাম ও ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে গ্রাম পর্যায়ে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চতকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইউনিয়ন সেন্টার পরিকল্পনা জরুরি বলে পরিকল্পনাবিদরা মত দেন।

শনিবার রাজধানীর বাংলামটরস্থ প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-র বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন সেন্টার পরিকল্পনার মাধ্যমে সেখানে আবাসন, শিক্ষা, স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, ব্যাংক, পুলিশ ফাঁড়ি, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পরিকল্পনা পেশার উন্নয়ন, চাকরির ক্ষেত্রে পরিকল্পনাবিদদের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্ল্যানিং ক্যাডার চালুকরণ, পেশাজীবী সংস্থা হিসেবে পরিকল্পনাবিদদের পেশাগত উন্নয়নে বিআইপির করণীয় এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনাবিদদের করণীয়সহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় পরিকল্পনা অনুশীলনের গুরুত্ব ও সম্প্রসারণ ছাড়া দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থা টেকসই করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, পরিকল্পনা অনুশীলনকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার জন্য পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট শক্তিশালী জাতীয় নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের তাগিদ দেন সভায় উপস্থিত পরিকল্পনাবিদরা।

বিআইপির ১৩তম কার্যনির্বাহী পরিষদ আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় ইনস্টিটিউটের যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ।

উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলেন, বিআইপিকে ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার সকল স্তরে, বিশেষ করে শহর ও নগরের মহাপরিকল্পনা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাসমূহের সঠিকভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার স্বার্থে নগর উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ক্রমাগত পরামর্শ ও নিরীক্ষণের দায়িত্ব বা সহায়তা করতে হবে। 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমাপে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে ইতোমধ্যে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে বিআইপিকে এ বিষয়ে গবেষণা ও পরিকল্পনার নিরিখে সরকার ও অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের মতামত সাপেক্ষে বিশেষ করণীয় পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। একইসঙ্গে পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ এবং কাজের ব্যাপ্তি নিয়ে বিআইপিকে জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন ও নিজেদের পেশাগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্রমাগত কার্যক্রম চালাতে হবে বলে তিনি পরামর্শ দেন।

এ কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান ২০১৮ সালে বিআইপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একটি বিশদ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। 

পিডিএসও/অপূর্ব