যথাসময়ে উপজেলা নির্বাচন

কারো জন্য অপেক্ষা করবে না ইসি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৩২

গাজী শাহনেওয়াজ
ama ami

বড় কোনো দল ও জোট আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করায় উদ্যোগ নেবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠান শেষ করা হবে।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, উপজেলা নির্বাচন দলীয় হলেও স্থানীয় সরকারের অনুরোধে কমিশন নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করে দেয়। তাই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার পর দল-নিরপেক্ষ উপজেলা নির্বাচনে কমিশনের দায় শুধু সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ নির্বাচন করানো। ইসির নির্বাচন শাখার তথ্যমতে, এ নির্বাচনের মূল প্রস্তুতির কাজ সংসদ নির্বাচনের সময় অনেকটাই এগিয়ে রাখা হয়েছে। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচন সামগ্রী যৌথভাবে কেনায় ওই প্রস্তুতি আগেই শেষ হয়েছে। এখন তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত করার ব্যস্ততাটুকু কমিশনের সামনে অপেক্ষা করছে।

কিন্তু সেদিক থেকে ভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেখানে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দেশে-বিদেশে বাড়িয়ে দেয় বহু গুণ। প্রয়োজন হয়, বিদেশি দাতা ও সংস্থার স্বীকৃতি। তাই বলা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কে এলো, কে না এলো— এ অঙ্ক কষার সুযোগ কমিশনের অনেক কম।

এদিকে, উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক জোটগুলোর একাধিক নেতাকর্মী মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র পোস্টার ছেপে জানান দিচ্ছেন আসন্ন উপজেলায় তারা প্রস্তুত। তবে সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস পরাজয় এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে দোটানার মধ্যে ফেলেছে। এ কারণে নির্বাচনে শুধু নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে বিএনপি। এ নিয়ে হিসাব মেলাতে ব্যস্ত বিএনপি ও তাদের সহযোদ্ধা ঐক্যফ্রন্ট। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এখানো নিস্পৃহভাব দেখাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাচনের নির্বাচন সামগ্রী আগেই কেনা রয়েছে। তাই নির্বাচনের সিংহভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন বলা যায়। এখন শুধু ভোটের জন্য স্থানীয় সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, দলীয় প্রতীকের নির্বাচন হলেও স্থানীয় সরকারের আবহ থাকায় সব দলকে এখানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এক কথায় যদি বলি, এখানে কোন দল অংশ নিল, কে নিল না তার জন্য ইসির কোনো অপেক্ষা থাকবে না। কারণ এ স্তরে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়, প্রার্থীর অভাব নেই। এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় প্রার্থীর অভাব হবে না, যোগ করেন কমিশন সচিব। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা ও মের শেষ দিকে রোজা বিবেচনায় মার্চ মাসে ভোটের উপযুক্ত সময় মনে করছি।

ইসি ও স্থানীয় সরকারের তথ্যমতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ওই বছরই কয়েক ধাপে হওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়েছিল। ওই মাসের ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলায় ভোট হয়। তবে প্রথম দুই ধাপে আওয়ামী লীগের তুলনায় বেশি উপজেলায় জয়ও পায় বিএনপি। তবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম ধাপে একাধিপত্য দেখায় ক্ষমতাসীন দল। এই ধাপগুলোতে কারচুপির অভিযোগ করে বিএনপি।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ১৭(১) (গ) ধারা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিষদের প্রথম বৈঠক (সভা) থেকে মেয়াদ শুরু হয়। এ হিসাবে মার্চেই অন্তত অর্ধেকের বেশি উপজেলা ভোটের জন্য উপযোগী হবে।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের যতটা তোড়জোড় বিপরীত চিত্র অপর রাজনৈতিক দল বিএনপিতে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো। মানুষের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। এ অবস্থায় আবার উপজেলা। সময় হোক তখন দেখা যাবে।

আর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, দেশজুড়ে এ নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দল থেকে যারা যোগ্য হবেন, তার হাতে নৌকা তুলে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর একই দিনে ৪৭৫টি উপজেলায় এ নির্বাচন হয়। ২০১৪ সালে ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়।

পিডিএসও/তাজ