সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যস্ত ইসি

অতি উৎসাহীর আচরণে অস্বস্তি কমিশনের

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১১ | আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৪২

গাজী শাহনেওয়াজ
ama ami

শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা, আর মাত্র ১০ দিন। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন। তবে অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যের আচরণে অস্বস্তি বেড়েছে কমিশনে।

নির্বাচনের সামগ্রীসহ অন্যান্য সরঞ্জমাদি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানোর তোড়জোড় চলছে। নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে। মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়াও মাঠে নামছে স্পেশাল ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশ-আনসার-ব্যাটালিয়ন আনসার। আর আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে সেনাসদস্যরা। তাই নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য নির্বাচনের সমান সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুতে এখন শশব্যস্ত কমিশন।

সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এই কমিশনের প্রতি মানুষের এক ধরনের আস্থা ফিরেছে। এর মধ্যে কিছু নিরাপত্তারক্ষীর অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডে যাতে ওই অর্জন ম্লান না হয় সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে তাদের। শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপরে হামলা এবং নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় আইজিপিকে চিঠি দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পৃথক চিঠিতে নির্দেশনা পাঠায় কমিশন।

এছাড়া নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম তদন্তের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের সর্তক করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিশন। আর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে তৎপর হতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্থাৎ যারা ভ্রাম্যমাণ টিম হয়ে মাঠে রয়েছেন তাদেরও কার্যক্রম দেখতে চেয়ে পত্র দিয়েছে ইসি। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের প্রতিবেদন পাঠাতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরাসহ অনেক জেলা থেকে আচরণবিধি ভঙ্গের জরিমানাসহ শাস্তির প্রতিবেদন এসে পৌঁছেছে ইসিতে। সেগুলোও কমিশন মনিটরিং করছে সর্বদা।

এদিকে কে এম নুরুল হুদা কমিশন যখন নির্বাচনকে দৃশ্যমান নিরপেক্ষ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ঠিক ওই সময়ে পাঁচ সদস্যের কমিশনের একজন মাহবুব তালুকদার সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্র সমান সুযোগ তৈরি হয়নি এমন ধরনের লিখিত পত্র গণমাধ্যমকে সোমবার সরবরাহ করে আস্থায় চিঁড় ধরিয়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে কমিশনের একজন হয়ে এ ধরনের স্টেটমেন্ট সামগ্রিক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা। তবে কমিশনের বাকিরা মাহবুব তালুকদারের এই অভিযোগটি খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না। এটাকে স্রেফ ওনার ব্যক্তিগত মতামত বলে অভিমত অন্যদের। এর আগে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তসহ অন্য একটি ইস্যুতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। মাহবুব তালুকদারের নির্বাচন নিয়ে ওই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার মধ্যে সাংগঠনিক জেলা সফরে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের অনেকে।

এছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে পরিকল্পনাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবার কিছুটা সীমিত করা হচ্ছে ফোর্স মোতায়েনে। কারণ ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল নির্বাচন বর্জন করার কারণে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন হয়নি ১৫৩টি সংসদীয় আসনে। এছাড়া ভোট ১৪৭টিতে হলেও বিরোধী পক্ষের নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা কেন্দ্রওয়ারি ও কেন্দ্রের বাইরে-মালামাল সরবরাহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফোর্স নামানো হয়েছিল। এবার সব দল অংশ নেয়ায় পুলিশ সদস্য মোতায়েনে সংখ্যা কমানো হয়েছে।

বিভাগওয়ারি সফরে থাকা নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনের সামগ্রীসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করে এনেছি। এবার আমাদের সব নজর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করার দিকে। সব জেলায় র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা সম্ভব হবে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় বিজিবি মোতায়েনে অগ্রাধিকার থাকবে। এছাড়া নির্বাচনের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে র‌্যাব। তবে পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ বাহিনীর সদস্য ও কোস্টাগার্ড মোতায়েন করা হলেও সেনাবাহিনী থাকবে সব জেলা-উপজেলা-মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে। আর পুলিশ-আনসার-ব্যাটলিয়ন আনসার থাকবে কেন্দ্র পাহারার পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর টহলের সঙ্গেও।

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনে গ্রাম ও শহরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গ্রামের কেন্দ্রগুলোয় সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ, অস্ত্রসহ দুইজন আনসারসহ ১২ জন এবং ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ, অস্ত্রসহ দুইজন আনসারসহ ১২ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর সিটি শহর কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ, ১২ জন আনসার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশসহ ১২ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ৯৬১ প্লাটুন বিজিবি এবং পাঁচ শতাধিক কোম্পানি র‌্যাব দায়িত্ব পালন করবে সারা দেশে। আর সেনাবাহিনী থাকবে সব জেলা ও উপজেলা সদরে।

আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ আসনের ব্যালট পেপার ছাপানোর টার্গেট রয়েছে কমিশনের। এক্ষেত্রে ২৩ ডিসেম্বর প্রতি জেলায় তা পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে ইভিএম প্রস্তুতির কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের যে ৬টি আসনে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সেখানে চলছে প্রশিক্ষণের কাজ।

এছাড়া নির্বাচনের মাঠে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়োজিত রয়েছে। এদের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট উপলক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রচার কাজ। আগামী ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় এ প্রচার বন্ধ হবে।

পিডিএসও/তাজ