‘স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি দল এবার নির্বাচনে’

জার্মান রাষ্ট্রদূতকে আল্লামা মাসঊদ

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:২৬

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ জার্মান ও বাংলাদশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছেন, দুই দেশের ভাষাগত একটা মিল আছে। সম্পর্কও অনেক ভালো।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রশংসা করে বলেন, আমি এ দেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। তারা অনেক মেহমানদারী করেন। এ দেশের মানুষের চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গেও আমাদের যথেষ্ট সামাঞ্জস্য আছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরাও আশ্রয় দিয়েছি।

পিটার ফারেন হোল্টজ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শাইখুল হাদিস ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি। স্বাধীনতার পর সবেচেয় বেশি রাজনৈতিক দল এবার জাতীয় একাদশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এত দল কখনোই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন গত শনিবার টঙ্গীতে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষকে একটি দুঃখজনক অধ্যায় উল্লেখ করে এতে আইএসের কোনো সংযুক্তি আছে কিনা জানতে চাইলে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই। তবে জামায়াত আছে। প্রকৃত ইসলামি দলগুলোর মধ্যে এরা ঘাঁপটি মেরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। টঙ্গীতেও এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে সঠিক বিষয়টি নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ আল্লামা মাসঊদের বারিধারার বাসভবনে সাক্ষাতে এলে তারা এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। 

জাতীয় একাদশ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হতে পারে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ জানতে চাইলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, স্বাধীনতার পর এত দল আর কখনোই একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আমরা অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করছি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জার্মানি বাংলাদেশে অবাধ গণতন্ত্রের চর্চা দেখতে চায়। সেজন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা করছি। কোনো রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের বাইরে থাকবে না।

বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন, ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট, সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করছি। জার্মানি সব সময় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আছে।

জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন আল্লামা মাসঊদের মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়ার ভূয়শি প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, মুসলমানদের ভাবামর্যাদা এই ফতোয়ায় আরও অত্যুজ্জ্বল হবে।

রাষ্ট্রদূত ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে জার্মানিতে একটি সেমিনারে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের ইসলামিক ইসলামিক স্কলারগণ জার্মানিতে আসেন। আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ফতোয়াও ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

তাবলিগ জামায়াতের বিষয়ে পিটার ফারেন বলেন, মুসলমানদের নিজেদের বিষয়ে আরও সহিষ্ণু হওয়া উচিত। শান্তির ধর্মের গায়ে কোনো আঁচড় লাগানো ঠিক নয়। যা হচ্ছে তা খুবই নিন্দনীয়। শান্তিপ্রিয় তাবলিগের এ দ্বন্দ্বে আমরা বিস্মিত।

পিডিএসও/হেলাল