প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের হিড়িক

প্রথম দিনে অভিযোগ ৮২

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাতিল প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফেরত পেতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে শুরু করেছেন। বলা যায়, অভিযোগ আবেদনের হিড়িক পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন ভবনের সংশ্লিষ্ট দফতরে।

আজ ও আগামীকাল পর্যন্ত এ অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। গতকাল আপিল শুরুর দিনেই আলোচিত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ইমরান এইচ সরকার, রেজা কিবরিয়া, হিরো আলমসহ বাছাইয়ে না টিকা ৮২ প্রার্থী ইসিতে এসে আপিল করেছেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৪টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মনোনয়নে বাদ পড়া নেতারা আপিল করে আবার তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, গত রোববার ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। সারা দেশে দাখিল করা ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ২২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।

এ পর্যন্ত যারা আপিল করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে নবাব মোহাম্মদ শামছুল হুদা, বগুড়া-৭ খোরশেদ মিলটন, খাগড়াছড়িতে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ-১ আবদুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ তমিজউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ মোহাম্মদ আফসার আলী, কিশোরগঞ্জ-২ মো. আখতারুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. তৈয়ব আলী, মাদারীপুর-৩ মো. আবদুল খালেক, দিনাজপুর-২ মোকাররম হোসেন, ঝিনাইদহ-২ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট আবদুল মজিদ, ঢাকা-১ খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ ফরিদুল কবির তালুকদার, পটুয়াখালী-৩ মো. শাহাজাহান, পটুয়াখালী-১ মো. সুমন সন্যামত, দিনাজপুর-১ পারভেজ হোসেন, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ কাইয়ুম চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ এস এম খলিলুর রহমান ও জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, এক শতাংশ ভোটার না থাকা, লাভজনক পদে থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, ঋণখেলাপি ও দণ্ডপ্রাপ্তিসহ বিভিন্ন কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, আপিল না করলেও এ বিষয়ে তথ্য নিতে কমিশনে এসেছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যে অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাতে মনে হয় না কারো মনোনয়নপত্র টিকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। ইসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গোলাম মওলা রনি বলেন, সামান্য ভুলের কারণে বাতিল হয়েছে। এটি বাতিলের মতো ভুল ছিল না, যেখানে ইসি থেকে ছোট ভুলে জন্য বাতিল না নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে আশাবাদী। কমিশনের প্রতি আস্থা আছে। আশা করি, আমি নির্বাচন করার সুযোগ পাব।

এদিকে আপিল করতে ইসিতে এসে বগুড়া-৪ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম বলেছেন ভিন্ন কথা। মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল না থাকার পরও ষড়যন্ত্র করে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিরো থেকে হিরো হয়েছি। ষড়যন্ত্র করে আমাকে থামানোর চেষ্টা চলছে। এমপি-মন্ত্রীরা চায় না প্রজারাও রাজা হোক। ভোট যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। কমিশনে আপিল করেছি, আশা করছি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুয়োগ পাব। আপিলকারী মীর নাছির উদ্দীন আহমদ অভিযোগ তুলেছেন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারের চাপে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পিডিএসও/হেলাল