স্কুলে বাবাকে অপমান, সইতে না পেরে আত্মহত্যা মেয়ের

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর শান্তিনগরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর এলাকায় একটি ভবনের সপ্তম তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছাত্রীর নাম অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষকরা সবার সামনে বাবাকে অপমান করার বিষয়টি সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে অরিত্রি। তবে বাবাকে অপমান নয়, নকলে ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ার লজ্জা থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে দাবি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজনীন সুলতানা মর্গে লাশ দেখতে গেলে নিহতের স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে গাড়ি থেকে তিনি নামতেই পারেননি। ধাওয়ার মুখে পড়ে একপর্যায়ে তিনি মর্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এসময় তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অনেকেই প্রিন্সিপালের প্রত্যাহার দাবি করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে শিক্ষার্থীরা।

অরিত্রির বাবা সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী দিলীপ অধিকারী জানান, শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় সপরিবারে থাকেন তারা। দুই বোনের মধ্যে বড় অরিত্রি, তার বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গতকাল সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল পাওয়া যায়। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষকরা তার বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে পাঠায়। অরিত্রির সঙ্গে আজ তারাও স্কুলে যান।

দিলীপ অধিকারী  বলেন, স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে মেয়ের নকল করার ব্যাপারে তারা ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমাও চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের রুমে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাদের প্রতি সদয় হননি। এসময় অরিত্রি প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও সবাইকে উচ্চস্বরে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন পিন্সিপাল।

অরিত্রির বাবা আরও বলেন, এরপর অরিত্রি দ্রুত বাসায় চলে যায়। পেছন পেছন তারাও বাসায় গিয়ে দেখেন, অরিত্রি নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তারা। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিলীপ অধিকারী আরও বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনেই আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে অরিত্রি। আর যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাই দোষী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পল্টন থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, অরিত্রি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনে কারো প্ররচনা ছিল কি না-তা তদন্তের পর তা জানা যাবে।

স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজনীন সুলতানা বলেন, অরিত্রি তার মোবাইল ফোনে বইয়ের বেশ কিছু পাতার ছবি তুলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। বিষয়টি নজরে আসে শাখা প্রধানের। পরে শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে এনে তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলা হয়। এরপর অরিত্রিকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে মাত্র। বাবাকে অপমানের জন্য নয়, নকলে ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকেই অরিত্রি আত্মহত্যা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

পিডিএসও/রিহাব