মেট্রোরেল : এবার মহাযজ্ঞ দক্ষিণে

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। এরই মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অনেকখানি কাজ হয়ে গেছে। এখন ঢাকার দক্ষিণে শুরু হচ্ছে এই মহাযজ্ঞ। এ কারণে ভেঙে ফেলা হচ্ছে শাহবাগ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের দুই ফুটওভারব্রিজ। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে এগুলো ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সূত্র জানায়, ফুটওভারব্রিজ ভেঙে ফেলার বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফুটওভারব্রিজের ওপর থাকা সব কেবল সংযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটওভারব্রিজে এখন বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ডিএমটিসিএলের একাধিক বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেট্রোরেল নির্মাণকাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এ কাজের স্বার্থে ২০ নভেম্বরের মধ্যে শাহবাগ ফুটওভারব্রিজ ও প্রেস ক্লাব ফুটওভারব্রিজ ভেঙে ফেলা হবে। এমতাবস্থায় এ ব্রিজের ওপর বিদ্যমান সব কেবল সংযোগ অতিসত্বর সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ব্যাপারে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত, ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। এ প্রকল্পে ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকবে ৬টি করে কার। এ ট্রেন ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে যাত্রী নিয়ে ছুটবে। উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন বহনে সক্ষমতা থাকবে মেট্রোরেলের। প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিট। ২০১৯ সালের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প চালু হলে প্রতি চার মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল।

এ প্রকল্প ছাড়া আরো দুটি মেট্রোরেল বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। একটি হবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশ দিয়ে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত। এ লাইনের একটি অংশ বসুন্ধরার পাশ দিয়ে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত চলে যাবে, যা পুরোটাই হবে এলিভেটেড। কমলাপুর পর্যন্ত যে লাইন যাবে, তার ১৬ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল ফরম্যাটে। অর্থাৎ রেল চলবে মাটির নিচ দিয়ে। অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পটি হবে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গুলশান-নতুনবাজার-ভাটারা পর্যন্ত। এটির দৈর্ঘ্য হবে ১৯ কিলোমিটার। এ লাইনটির একাংশ হবে মাটির নিচ দিয়ে। কিছু অংশ হবে ওপর দিয়ে।

এ রেলপথের প্রথম ধাপে ছয়টি করে যাওয়া ও আসা মিলে ১২টি এবং পরবর্তী ধাপে আরো ছয়টি করে ১২টি হিসাবে যাওয়া ও আসার জন্য মোট ২৪টি ট্রেন থাকবে। ১৬টি স্টেশনের প্রথম ৯টি স্টেশন : উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় ঢাকা মাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং বিদেশি কোম্পানি ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট এবং সিনো হাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের যৌথ সহযোগিতায় কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বাকি স্টেশনগুলোর মধ্যে আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার এবং কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ যথাক্রমে দেশীয় কোম্পানির যৌথ সহযোগিতায় টাক্কেন করপোরেশন এবং সুমিটোমো মিতসুই কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে মতিঝিলে আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। খরচও সাশ্রয় হবে। প্রতিটি ট্রেনে ৬টি কম্পার্টমেন্ট থাকবে, যাতে প্রায় ১৭০০ যাত্রী বহন করা যাবে। প্রাথমিকভাবে ৬টি করে মোট ২৪টি ট্রেন থাকবে এবং পরে ট্রেনের সংখ্যা ছয় থেকে আটটিতে উন্নীত করা হবে। ফলে মোট ট্রেনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টি। জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২২ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে জাইকা ও ঢাকা ডিটিসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

পিডিএসও/হেলাল