নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির নাইট শিফট

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১১:০৬ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১২

হাসান ইমন

নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরীক্ষামূলক নাইট শিফট বা রাত্রীকালীন অফিসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জনবহুল মেগাসিটি ঢাকা যানজট, জলজট, মশা, আবর্জনাসহ অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় নাইট শিফট অফিস কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করবে।

তবে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংবাদ সম্মেলন করে নগরবাসীকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যারা নাইট শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সম্মতি নিতে হবে। আর নাইট শিফটের জন্য তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে ডিএসসিসির ইতিবাচক এ উদ্যোগকে বাঁকা চোখেও দেখছেন অনেকে। কেননা, ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত তিন বছরের বেশি সময়ে হকার উচ্ছেদ, পুরাতন বাস অপসারণ, খাল উদ্ধার, ওয়েস্ট বিন স্থাপন, বিলবোর্ড অপসারণসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও শেষমেশ তা স্থায়ী হয়নি। এ কারণে নাইট শিফটও যেন সে রকম পরিণতির দিকে যাবে না, তার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা। এ কারণে ডিএসসিসির নাইট শিফটের তেমন পরিণতি হবে কি না, সে ব্যাপারে সংশয়ে রয়েছেন সাধারণ জনগণ।

ডিএসসিসি গত ৪ অক্টোবর থেকে রাত্রিকালীন অফিস শুরু করেছে। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। নাইট শিফট চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চারটি বৃহস্পতিবার নাইট শিফটে অফিস করেছে ডিএসসিসি। পূজার ছুটিতে এক বৃহস্পতিবার নাইট শিফট বন্ধ ছিল। পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ডিএসসিসির পরীক্ষামূলক রাত্রিকালীন অফিসের উদ্যোগ ভালো। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম মনিটরিং, বর্জ্যব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ বহুবিধ কার্যক্রম করার সুযোগ রয়েছে। শুনেছি নাইট শিফটে সেসব কার্যক্রম করছে ডিএসসিসি। ফলে গাড়ির চলাচল কিছুটা হলেও কমবে আর তাতে নগরীর যানজট নিরসনে কিছুটা ভূমিকা রাখছে—এটা বলাই যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সঠিকভাবে কাজ করলে দিনের কর্মসূচির মধ্যেও ডিএসসিসির সব নাগরিক সেবা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু, সে কাজগুলো সঠিকভাবে না হওয়ায় ডিএসসিসির শীর্ষ কর্তাদের নাইট শিফট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। ডিএসসিসি মেয়রের পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। দেখা যাক, তাদের এ কার্যক্রমে কী ফলাফল বয়ে আনে।

এক মাস ধরে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে অফিস করছেন ডিএসসিসির সব বিভাগীয় প্রধান, কাউন্সিলর এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিগত এক মাসের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে কয়েকজন কাউন্সিলর ও কর্মকর্তার সঙ্গে জানতে চাইলে তারা নাইট শিফটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াহিদুল ইসলাম মিল্টন বলেন, মেয়র সাঈদ খোকনের বিশেষ উদ্যোগে ডিএসসিসিতে নাইট শিফট চালু হয়েছে। এটা মেয়র মহোদয় বোর্ডসভায় উত্থাপন করলে কাউন্সিলররা সম্মতি দেন। এরপর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে নাইট শিফট চালু করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে আমি আমার ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকার সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন কার্যক্রম মনিটরিং করি। একই সঙ্গে এলইডি বাতি, বর্জ্য অপসারণ, মশক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম মনিটরিং করছি। নাইট শিফটে ওয়ার্ডের কার্যক্রম মনিটরিং করে লাইফে মেয়রকে অবহিত করি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হকার উচ্ছেদ, পুরাতন বাস অপসারণ, খাল উদ্ধারসহ বেশ কিছু উদ্যোগ শুরু করে অব্যাহত রাখতে না পারার পেছনে, ডিএসসিসির চেয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার দায় বেশি। ডিএসসিসির নাইট শিফট তেমন কিছু হবে না বলেও অভিমত এ কাউন্সিলরের।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর বলেন, মেয়র সাঈদ খোকনের নাইট শিফট ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে। আমরা এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাতে সেবা কার্যক্রম মনিটরিং করছি। এতে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির সচিব মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, নাগরিক সেবা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ডিএসসিসিতে নাইট শিফট চালু করা হয়েছে। এটি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খুবই ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। মেয়র মহোদয়ের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ সাধুবাদ কুড়াচ্ছে। আমরা নাইট শিফটেন্ব ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি। তবে বর্তমানে বর্জ্য অপসারণ, উন্নয়ন কার্যক্রম মনিটরিং, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি মনিটরিংয়ের কার্যক্রম করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, পৃথিবীর উন্নত অনেক শহরে ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এতে করে ওইসব শহরে যানজটসহ অন্যান্য সমস্যা কম। রাজধানী ঢাকাও পৃথিবীর মধ্যে একটি বড় শহর। এ শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। শহরের প্রতিটি অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত। এ কারণে ঢাকায়ও নাইট শিফট চালু হলে দিনের বেলায় গাড়ির চাপ কমে যাবে। এতে করে যানজট কম হবে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা শহর এখন অনেক রাত পর্যন্ত সচল দেখা যায়। রাত ১টা-দেড়টা পর্যন্ত গাড়িগুলো সচল থাকে। সরকার যদি মনে, শহরের রাতেও একটি শিফট চালু করতে, সেটাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা এবং তাদের পেমেন্ট করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ডিএসসিসির পরীক্ষামূক নাইট শিফট চালু করে ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা ভালোই উপলব্ধি করছি। উন্নয়ন ও সেবামূলক অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আশা করি এ উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে।

পিডিএসও/হেলাল