‘শুধু ঢাকা নয়, বাইরের নগরী নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা জরুরি’

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, নগর শব্দটা আমরা যখন ব্যবহার করছি, তখনি সব নগরের সমস্যা সামনে চলে আসে। প্রত্যেক নগরের মধ্যে বড় ধরনের কিছু বাস্তবিক প্রার্থক্য রয়েছে। আমাদের আরবন স্প্রেকট্রামের একটা ধারণা মাথায় নেওয়া খুব জরুরি। ওই ধারণায় প্রত্যেকটা নগরীকে একইভাবে চিন্তা করার কথা বলা হয়েছে। আর এ জন্য  শুধু ঢাকা নগরী নিয়ে পরিকল্পনা করলে হবে না, ঢাকার বাইরে অন্যান্য নগরীকে নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার ‘টেকসই নগর ও জনবসতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর বাংলা মটরের প্লেনার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লেনার্স (বিআইপি) আয়োজিত বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস ২০১৮ উপলক্ষে সমসাময়িক পরিকল্পনা ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারের সহযোগী হিসেবে ছিলেন, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেলটেক, আবাসন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং, বেসরকরি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ও রেডিও টুডে। 

জিল্লুর রহমান বলেন, নগরের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়ে ধারণাগত বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। শহরের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি। একদিকে অতি ধনী অন্য দিকে অতি দরিদ্রের অবস্থান হলে নগর সামঞ্জস্যতা হারায়। পরিকল্পিত নগরায়নের ক্ষেত্রে নগরের বাসযোগ্যতা, নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিদ্যমান পরিকল্পনায় এসব মূল বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন হলেই সেটা হবে টেকসই নগর।

তিনি বলেন, আগামীতে আমাদের নগরগুলো ৪ ধরনের সমস্যার মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে আমাদের এই বাস্তবতাগুলো তৈরি হচ্ছে। প্রথমটি হলো, বিকাশ হচ্ছে। প্রত্যেকটি শহরের আয়তন বাড়ছে। মানুষের স্রোত আসছে শহরগুলোতে। অর্থনৈতিক বিষয় যে দিকে থাকবে সে দিকে মানুষ যাবে। কিন্তু নগরগুলো অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হচ্ছে। দ্বিতীয়ত ব্যক্তিসার্থ। মানুষ সার্বিক চিন্তা না করে ব্যক্তি চিন্তা বেশি করে। তৃতীয় হচ্ছে, নিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাব। দেশে নিয়ম আছে, কিন্তু জবাবদিহিতার বড় অভাব রয়েছে। নগরীর কোথাও খালি জায়গা ফেলে ভবন তৈরি করে ফেলছে। চিন্তুা করছে না সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হবে কিনা। আর শেষ বিষয়টা হচ্ছে উদ্ভাবনী চিন্তা। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্য বিআইপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি স্থানান্তর হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীকে বাচানোর জন্য। কিন্তু উল্টো হয়েছে। এখন ধলেশ্বরী নদী বুড়িগঙ্গার মতো হচ্ছে। সুতারাং এখন সরকারকে এ নদী বাচানোর উদ্যেগ নিতে হবে। 

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার মাহমুদ, বিআইপির সহসভাপতি ফজলে রেজা সুমন, ব্র্যাকের কর্মসূচি প্রধান হাসিনা মোশারেফা, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল প্রমুখ।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আধুনিক নগরায়ন নিয়ে তাদের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিকল্পনা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

পিডিএসও/তাজ