নির্বাচনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে তদন্ত কমিটি

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:২৭ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪৩

গাজী শাহনেওয়াজ
ইসিতে গতকাল সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বেরিয়ে আসছেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের নির্বাচনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গঠিত নির্বাচন তদন্ত কমিটির সংখ্যা বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৫০ কমিটির জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হচ্ছে ৬৫০ জন। তারা নির্বাচনপূর্ব সময় অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী অনিয়ম প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদীয় ৩০০ আসনের সংঘটিত অনিয়ম-অপরাধ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা আমলে নেবেন এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করে সাজা দেবেন।

গত সংসদে নির্বাচন তদন্ত কমিটির সংখ্যা ছিল ১৪০টি। এবার ১০টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০টি। তবে নবম জাতীয় সংসদে এ কমিটির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০টি।

এদিকে, নির্বাচন তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আসনের আয়তন, একাধিক উপজেলা এবং ভোটার সংখ্যাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবার কমিশন। এ হিসেবে জেলার আসন অনুপাতে ৪টি, কোনোটিতে ৩টি, কোনোটিতে ২টি এবং ক্ষেত্রবিশেষে একটিও কমিটি গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় জেলায় যেখানে পাঁচটির অধিক আসন রয়েছে ওইগুলোতে দুইজন করে ২০ জনের বেশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।

এসব নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন, বিধি ও আচরণবিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে পত্র দিয়েছে ইসি। সদ্য পাঠানো এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইসির আইন শাখার উপসচিব মো. শরীফ হোসেন হায়দার। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (জাতি) তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আরপিও’র অনুচ্ছেদ ৮৯এ এর উল্লেখিত অনুচ্ছেদ ৭৩(২বি), ৭৪(২এ), (৩)(৪)(৫)(৬), অনুচ্ছেদ ৭৮ থেকে ৮১(১) ও ৮২ এর অধীন নির্বাচনী অপরাধসমূহ দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮(অ্যাক্ট) অধীন অপরাধ আমলে নেয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের নিমিত্তে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আবশ্যক। এসব ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনকালীন সময়ে অপরাধ আমলে নেন এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার করা সম্পন্ন করে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬৫০ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন। তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জাতি প্রশিক্ষণ প্রদানের জরুরি।

তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পঞ্চগড়-১ আসনটি তিনটি উপজেলা নিয়ে (সদর, তেঁতুলিয়া ও অটোয়ারী) গঠিত। এ আসনে তিনজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে। একইভাবে পঞ্চগড়-২ আসনটি বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দায়িত্ব পালন করবেন দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট অর্থাৎ দুই সংসদীয় আসনের জন্য ১টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

একইভাবে দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনের জন্য ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন; যার মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনে সর্বোচ্চ চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ জেলার জন্য তদন্ত কমিটি রাখা হয়েছে দুইটি। ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি আসনের বিপরীতে একটি কমিটির অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট থাকছে পাঁচজন। তবে সর্বোচ্চ ১১টি কমিটি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ৯টি এবং কুমিল্লায় ৬টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনের কাজে যুক্ত করা হয়। তবে নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম তদন্তে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচনের প্রচারের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা অপরাধ আমলে নিয়ে তথ্য-উপাত্তের আলোকে সামারি ট্রায়াল করে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন। ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাজ শুরু হয়ে যাবে। তাদের দায়িত্ব ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।

পিডিএসও/হেলাল