সম্প্রচার আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:২২ | আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০৪

অনলাইন ডেস্ক

মন্ত্রিসভা আজ সোমবার নীতিগতভাবে খসড়া সম্প্রচার আইন-২০১৮ অনুমোদন করেছে। একটি কমিশন গঠনের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনাই এই আইনের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রধানত এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্য হচ্ছে সম্প্রচার শৃঙ্খলা আনা। সম্প্রচারের জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে এবং এজন্য একটি কমিশন থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিকৃত মানসিকতা ও দেউলিয়াত্বের কারণে আদালত কর্তৃক সম্প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা সত্ত্বেও কেউ সম্প্রচার অব্যাহত রাখলে সেই ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

শফিউল আলম বলেন, এছাড়া মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে ‘দি মাস মিডিয়া এমপ্লোইজ (সার্ভিস কমিশন) ল’ ২০১৮ অনুমোদন করেছে। এতে টেলিভিশন চ্যানেলসহ সকল গণমাধ্যমকর্মীর জন্য ওয়েজ বোর্ডের নিশ্চয়তার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, কাউকে অযোগ্য ঘোষণার পরও যদি কেউ সম্প্রচার অব্যাহত রাখে, তবে তাকে প্রতিদিনের জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদানের বিধান প্রস্তাবিত সম্প্রচার আইনে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সাত সদস্যের একটি সম্প্রচার কমিশন গঠন এবং এই কমিশন গঠনে সদস্যদের নিয়োগ দিতে একটি সার্স কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি একজন চেয়ারম্যান এবং একজন নারী সদস্যসহ ছয় সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলম কমিশনের কাজ সম্পর্কে বলেন, কমিশন সম্প্রচারের মান দক্ষতা অক্ষুণ্ন ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সম্প্রচার শিল্পে গতিশীলতা আনতে কোনো ব্যক্তিবর্গ অথবা কোনো সংস্থার নামে লাইসেন্স প্রদান করবে। তিনি আরো বলেন, কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স দেয়ার পাশাপাশি সম্প্রচার যন্ত্রপাতিরও লাইসেন্স প্রদান করবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকবে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কমিশনকে সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক অনুমতি নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কমিশনের অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর হলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে। কোনো ধংসাত্মক এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও অথবা অন্য যেকোনো বিষয় সম্প্রচার অথবা উপস্থাপন এবং সরকারের জরুরি কোনো বার্তা সম্প্রচার না করলে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল