কোনো নিয়মই মানছেন না পরিবহন চালকরা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৬ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:১৩

হাসান ইমন

কোনো কিছুতেই শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায়। যাত্রীরা ইচ্ছামতোই উঠা-নামা করছেন মাঝপথে। চালক-হেলপাররাও তাদের খেয়ালখুশি মতো চলছেন। এদিকে যাত্রী ছাউনিতেও অনীহা দেখা গেছে নগরবাসীর। তারা মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন বাসের অপেক্ষায়। আর নির্ধারিত স্থানে বাস থামাতে পুলিশ বাধ্য করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালক-হেলপাররা তা মানছেন না। এই অবস্থায় গণপরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উদ্যোগও হালে পানি পাচ্ছে না। তবে নতুন করে ১৩০টি বাস-বে ও যাত্রী ছাউনির স্থান নির্ধারণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব স্থানে বাসস্টপিজ ও যাত্রী ছাউনি তৈরি করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে তালিকা পাঠিয়েছে ডিএমপি। এসব স্থান এরই মধ্যে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো নির্মাণ হলে কিছুটা হলেও ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭২টি বাসস্টপেজে ৪২টি যাত্রী ছাউনি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি স্থানগুলোতে

জায়গা স্বল্পতার কারণে যাত্রী ছাউনি করতে পারছে না ডিএসসিসি। আর ৪২টি স্পটের মধ্যে যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ ও মিরপুর রোডে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের বাধার কারণে যাত্রী ছাউনি স্থাপন থেকে সরে এসেছে ডিএসসিসি। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ৫৮ বাসস্টপেজের মধ্য ৮টি বাস-বে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কোনো যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে আমাদের কাছে ডিএনসিসি এলাকার বাসস্টপেজের একটি তালিকা পাঠিয়েছে। ওই তালিকার আলোকে আমরা নতুন বাজার ও মিরপুর এলাকায় মোট আটটি বাসস্টপেজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। অন্যান্য স্থানও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাসস্টপেজ করা সম্ভব হলে আমরা করে ফেলব।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত যাত্রী ছাউনি করার কোনো উদ্যোগ ডিএনসিসি নেয়নি। তবে স্থান যাচাই-বাছাই কাজ চলছে। কোথাও তেমন প্রয়োজন দেখা দিলে আমরা যাত্রী ছাউনিও করব। তবে এক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জায়গা সংকট ও নানামুখী বাধা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজিব খাদেম বলেন, পুলিশ স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেসব সব জায়গায় যাত্রী ছাউনি করা যাবে না। তবে যেসব জায়গায় করা সম্ভব সেসব জায়গায়ও করতে পারছি না। এক্ষেত্রে স্বয়ং এসবি অফিস ও পুলিশ থেকেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও কোম্পানির পক্ষ থেকেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় যতটুকু সম্ভব আমরা ততটুকু কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ডিএমপি নির্ধারিত স্থানগুলোর কোথাও এখনো বাস-বে করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে বাসস্টপেজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ট্রাফিক মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীতে ১৩০টি বাসস্টপেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টপেজে গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী উঠাতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ খুব যে সফল তা আমরা দাবি করছি না। তবে এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার তো কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমরা রাজধানীর ১৩০টি বাসস্টপেজের তালিকা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দিয়েছি। তারা সেখানে বাস-বে বা যাত্রী ছাউনি করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেক সহায়তা করবে। তবে বাস্তবতাও কঠিন। বেশিরভাগ স্থানেই জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। ফুটপাত বা ভবন ভেঙে তো বাসস্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি করা যাবে না। এজন্য আমরা সিটি করপোরেশনকে রোড মার্কিং করে দেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছি।

ডিএসসিসির বাসস্টপেজ ও যাত্রী ছাউনির নির্ধারিত স্থান : বাংলামোটর ইন্টারসেকশন-উত্তর, বাংলামোটর ইন্টারসেকশন-দক্ষিণ, বাংলামোটর ইন্টারসেকশন-পূর্ব, রাজমনি ক্রসিং-উত্তর, রাজমনি ক্রসিং-পশ্চিম, মগবাজার ক্রসিং-উত্তর, মগবাজার ক্রসিং-পশ্চিম, মগবাজার ক্রসিং-উত্তর, শাহবাগ ক্রসিং-উত্তর, শাহবাগ ক্রসিং-পূর্ব, শাহবাগ ক্রসিং-পশ্চিম, মুক্তাঙ্গন, সচিবালয়-জিরোপয়েন্ট, টিএন্ডটি বাসস্টপেজ, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব বাস-বে, ধানমন্ডি ৪ নম্বর ক্রসিংয়ের সামনে, কলাবাগান মাঠের সামনে, মেট্রো শপিংমলের সামনে, শুক্রাবাদ বাজারের সামনে, বায়তুস সালাহ মসজিদের সামনে, ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে, কেএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে, ইবনে সিনা ১ নম্বর গেটের সামনে, জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতালের সামনে, কেয়ারীর প্লাজার সামনে, নিজাম শংকর প্লাজার সামনে, ১৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, ফুলবাড়ীয়া উত্তর বাস-বে, ফুলবাড়ীয়া দক্ষিণ বাস-বে, ফুলবাড়ীয়া পশ্চিম-বে, তাঁতীবাজার উত্তর পূর্ব বাসস্টপেজ, তাঁতীবাজার উত্তর-পশ্চিম বাসস্টপেজ, নয়াবাজার বাসস্টপেজ, সাইন্স ল্যাবরেটরি পূর্ব, আজিমপুর দক্ষিণ-পূর্ব বাসস্টপেজ, আজিপুর দক্ষিণ-পশ্চিম বাসস্টপেজ, সোয়ারীঘাঠ জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে দুইটি, সেকশন বেড়িবাঁধ বাসস্টপেজ-পূর্ব, সেকশন বেড়িবাঁধ-পশ্চিম, সিকদার মেডিকেল বাসস্টপেজ-উত্তর, সিকদার মেডিকেল বাসস্টপেজ-দক্ষিণ, শাপলা চত্বরের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্ব, শাপলা চত্বরের উত্তর-পূর্ব পার্শ্ব, শাপলা চত্বরের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্ব, ইত্তেফাক মোড়ের দক্ষিণ-পার্শ্ব, হাটখোলা রোডের পূর্বাংশ, রাজধানী সুপার মার্কেটের উত্তরাংশ, দয়াগঞ্জ মোড়ের দক্ষিণাংশ, জুরাইন রেলগেটের দক্ষিণাংশ, জুরাইন রেলগেটের উত্তরাংশ, যাত্রাবাড়ী মোড়ের পশ্চিমাংশ, শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড-আউট গোয়িং, রায়েরবাগ-মাতুয়াইল কবরস্থান সড়কের সংযোগস্থলে, বলাকা বাসস্ট্যান্ড, সায়েদাবাদ পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল-ইনকামিং, ধলপুর-সায়েদাবাদ ব্রিজের উত্তর পার্শ্ব, সায়েদবাদ টার্মিনালের আউট গেট সড়কের উভয় পার্শ্ব, মুগদা টিটিপাড়া দক্ষিণ, শাহজাহানপুর চানমারীবাট-দক্ষিণ, মালিবাগ রেলগেট-পূর্ব, মৌচাক উত্তর, মালিবাগ দক্ষিণ, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের উত্তরাংশ, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের পূর্বাংশে দুইটি এবং খিলগাঁও ফ্লাইওভারের পশ্চিমাংশ।

ডিএনসিসির বাসস্টপেজের নির্ধারিত স্থান : সোনারগাঁও ক্রসিংরের উত্তারাংশ, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনের অংশ, ফার্মগেট বাস-বে, ইন্দিরা রোড স্টপেজ, তেজগাঁও টিএন্ডটি মাঠ স্টেপেজ, শেরেবাংলানগর উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ের উত্তরাংশ, আগারগাঁও লাইট ক্রসিংয়ের উত্তরাংশ, আগারগাঁও লাইট ক্রসিংয়ের দক্ষিণাংশ, মোহাম্মদপুর মাদার কেয়ার বাসস্টপেজ, মানিক মিয়া এভিনিউ বাস স্টেপেজ, আসাদগেট বাসস্টপেজ, কলেজ গেট বাসস্টপেজ, শিশুমেলা বাসস্টপেজ, শ্যামলী বাসস্টপেজ, মিরপুর রোড সড়ক ও জনপথ স্টাফকোয়ার্টার বাসস্টপেজ, কল্যাণপুর বাসস্টপেজ, মিরপুর রোড মোহনা বাসস্টপেজ, টেকনিক্যাল বাসস্টপেজ, মিরপুর এশিয়া হল বাসস্টপেজ, মুক্তবাংলা বাসস্টপেজ, মিরপুর মিস্কো মার্কেট বাস স্টপেজ, মিরপুর জিমাট বাসস্টপেজ, সনি সিনেমা হল বাসস্টপেজ, দারুস সালাম কবিরাজবাড়ী শুভ্র এন্টারপ্রাইজের সামনের বাসস্টপেজ, আল্লাহর দান হোটেল হতে খালেক মাঠ পর্যন্ত, মাজার রোড ক্রসিং হতে ১৫০ ফুট পর্যন্ত, গাবতলী আন্ডারপাসের সামনে, গাবতলী গরুর হাট বাসডিপোর সামনে, পল্লবী ১০ নম্বর গোল চত্বরের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে চারটি, মহাখালী রেল ক্রসিংয়ের উত্তরাংশে, মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে, কাকলি রেল ক্রসিংয়ের উত্তরে, কাকলি ক্রসিংয়ের দক্ষিণে, নতুন বাজার উত্তর, নতুন বাজার দক্ষিণ, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ক্রসিং, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ক্রসিং, আব্দুল্লাহপুর ক্রসিং, হোটেল রেডিসনের পূর্বাংশ, হোটেল রেডিসনের পূর্বাংশ, জোয়ার সাহারার পূর্বাংশ, জোয়ার সাহারার পশ্চিমাংশ, খিলক্ষেতের পূর্বাংশ, খিলক্ষেতের পশ্চিমাংশ, কাওলা’র পূর্বাংশ, কাওলার পশ্চিমাংশ, এয়ারপোর্টেও পূর্বাংশ, এয়ারপোর্টের পশ্চিমাংশ। এছাড়াও উপরে উল্লেখিত আটটি স্থানের সড়কের অপরাংশেও বাস স্টপিজ ছাইনি করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

পিডিএসও/হেলাল