সংসদ নির্বাচন : বরাদ্দ ও ব্যয়ের খাত বাড়ল কয়েকগুণ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১০ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১৭

গাজী শাহনেওয়াজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বরাদ্দ ও ব্যয়ের খাত বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে তিনগুণের বেশি। ওই নির্বাচনে মোট বরাদ্দ ছিল ২৬৮ কোটি, সেখান থেকে বাড়িয়ে এবার করা হয়েছে ৭৩২ কোটি টাকা। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে ব্যয়ের খাতও। গত সংসদে যেখানে ব্যয়ের খাত ধরা ছিল ২৯টি, এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৯টি অর্থাৎ এখানেও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, সময়, বাস্তব অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সব কিছু বিবেচনা করে নির্বাচনের ব্যয় ও খাত অনুযায়ী বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হয়। গত সংসদে বিএনপিসহ অনেক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে আসন্ন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়বে। সঙ্গে বাড়বে নির্বাচনের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির ব্যয়। গতকাল সোমবার সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের খাত চূড়ান্ত করে কমিশনের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে তফসিল পূর্ব সময়ের ব্যয় ছাড় করা শুরু করবে কমিশন। তবে নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয়ে আগেই থোক বরাদ্দ দিলেও এ খাতওয়ারি বরাদ্দ থেকে আগের ব্যয়ের খাত সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরো বলেন, নির্বাচনে দুইটি খাতে সার্বিক ব্যয় হয়ে থাকে। একটি নির্বাচন পরিচালনা খাত অন্যটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত খাত। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে তিনগুণ বেশি খরচ হয় নিরাপত্তা খাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা খাতে যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে তার মধ্যে আনসার সদস্যরা একাই বরাদ্দ দাবি করেছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি। তবে পুলিশ সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ চেয়ে থাকে। তাদের চাওয়ার মাত্রা ক্ষেত্রবিশেষে এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যা নিরাপত্তা খাতের সব বরাদ্দের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।

নির্বাচনের বাজেট শাখার এক তথ্যে দেখা গেছে, পঞ্চম জাতীয় সংসদে আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ কোটি। একইভাবে সপ্তম সংসদে ১৮ কোটি, অষ্টম সংসদে ৪২ কোটি, নবম জাতীয় সংসদে ৯৮ কোটি এবং দশম জাতীয় সংসদে ১৮৩ কোটি অর্থাৎ এ সংসদে ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৬৪ কোটি; যার মধ্যে ওই টাকা ব্যয় হয় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পেছনে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩২ কোটি টাকা। নির্বাচনের নিরাপত্তায় এবার ৪০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নির্বাচনের ব্যয়ের খাত হঠাৎ বাড়ানো হয়েছে। এক খাতকে ভেঙে কয়েকটি করা হয়েছে। আবার নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত দশম জাতীয় সংসদে খাত ধরা হয় ২৯টি, এবার বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৪৯টি। খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খাত তুলে ধরা হলো—যার মধ্যে ভোট কেন্দ্রের বেষ্টনী নির্মাণ, ভোটকক্ষ প্রস্তুতকরণ, কেন্দ্রের সংস্কার, ভোট কক্ষে ব্যালট পেপার মার্কিং প্লেস-গোপন কক্ষ নির্মাণ, অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র নির্মাণ খরচ-কমিউনিটি সেন্টার-প্রাইভেট বিল্ডিং ভাড়া বাবদ ব্যয়, অস্থায়ী ভোটকক্ষ, অতিরিক্ত ভোটকক্ষ নির্মাণ, ভোট কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য মনোহর সামগ্রী, যথা সাদা কাগজ-কার্বন কাগজ-বল পয়েন্ট কলম-মোমবাতি-সুপার গ্লু-গামপট-ছুরি-আলপিন-সুঁই-সুতা-দিয়াশলাই, ঢাকা থেকে ব্যালট পেপার-ব্যালট বাক্স-বিভিন্ন প্রকার ফরম-প্যাকেট ও ম্যানুয়াল, রিটার্নিং অফিসারে ডাক-ফ্যাক্স-বিশেষ বার্তাবাহক-মুদ্রণ-আপ্যায়ন, নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম বা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এবং ওই অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য গঠিত নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রয়োজনীয় ব্যয়-মামলা পরিচালনা ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে নিয়োজিত নির্বাহী-বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পরিষ্কারকরণ-কুলি খরচ ও পরিবহন বাবদ ব্যয় এবং সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তির সঙ্গে কমিশনের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন ব্যয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবে ইসি। নতুন বছরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতার জন্য ডিসেম্বরের ২৭ তারিখের মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করতে প্রস্তুতি শেষ করছে ইসি।

পিডিএসও/হেলাল