সড়কে শৃঙ্খলা : ডিএসসিসির কাজ তদারকি করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯

হাসান ইমন

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাজ মনিটরিং করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে—সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সড়ক, আন্ডারপাস, যাত্রী ছাউনি, মিডল্যান্ড, সড়কবাতি, জেব্রাক্রসিংসহ সড়ক সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সংস্কার কাজের অগ্রগতি ও নতুন নতুন উদ্যোগ।

সূত্র মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে নগরবাসী যেন ভোগান্তিতে না পড়ে সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সড়কে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, জেব্রাক্রসিং তৈরি, আন্ডারপাস ব্যবহারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সড়কে মিডিয়ান ও আইল্যান্ডগুলো পরিচ্ছন্ন, রংকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, প্রাইমারি সড়ক মেরামত, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে জনসচেতনতা তৈরি, সড়কে বাতি স্থাপন, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও সড়ক আবর্জনামুক্ত রাখতে তদারকি করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। এসব ক্ষেত্রে কী কী কাজ হচ্ছে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন আকারে কার্যালয়ে পেশ করতে হয় বিএসসিসিকে।

উন্নয়ন কাজের প্রত্যক্ষ মনিটরিংয়ের জন্য গত ১৬ আগস্ট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিএসসিসির প্রতিদিনের কাজের বিবরণ ও অগ্রগতি উল্লেখ করে ডিএসসিসির সচিবের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবেদন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কাজের বর্তমান চিত্র বিচার বিশ্লেষণের ব্যাপারে ১১ সেপ্টেম্বরে আবারো নগর ভবনে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো সভা চলছে।

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি সচিব মো. শাহাবুদ্দিন খানের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ফেঞ্চিং মেরামত, এসটিএস মেরামত, ঘোড়ার আস্তাবল উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার মেরামত করা হয়েছে। অঞ্চল ১-৫ এর আওতাধীন এলাকার মিডিয়ান ও আইল্যান্ডগুলো পরিচ্ছন্ন, রংকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, প্রাইমারি সড়ক মেরামত ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া গুলিস্তান আন্ডারপাস সংস্কারপূর্বক পথচারীবান্ধবকরণের কার্যক্রম ২০ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল। এই কাজের অগ্রগতি হয়েছে করিডরের টাইলস পরিবর্তন ৪০ দশমিক ২০ ভাগ, বৈদ্যুতিক ফায়ার প্রুফ ও তার স্থাপন ৩১ ভাগ, পুরাতন ফলস সিলিং অপসারণ করে নতুন করে ফলস সিলিং স্থাপনের অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া সিঁড়ি ঘরের দেয়ালের পুরাতন প্লাস্টার অপসারণ করে নতুন প্লাস্টার ও রংকরণের অগ্রগতি ৭১ ভাগ, কলাপসিবল গেট মেরামত ও রংকরণ ৪৭ ভাগ, ৮টি গেটের সামনে এসএস দিয়ে বেরিয়ার তৈরি এবং টাইলসের কাজ ৫২ ভাগ, অগ্নিনির্বাপণের ফায়ার এস্টিংগুইশার স্থাপনে কোনো অগ্রগতি না হলেও ৮টি প্রবেশপথে নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্যমূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পান্থকুঞ্জ পার্ক সংস্করণে কিছু কাজ বাকি থাকলেও তা চলমান। ৩২টি ফুটওভার ব্রিজ সংস্করণ, রংকরণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজের ৫২ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধান সড়ক ও ফুটপাত মেরামতের কাজের অগ্রগতি ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে।

এই বিষয়ে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থানা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে সিটি করপোরেশনের নেওয়া প্রদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফলে সড়কে সব ধরনের শৃঙ্খলা খুব দ্রুতই ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর রাস্তায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। রাস্তায় নেমে আসেন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও। পাশে থেকে সমর্থন জোগায় সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। সহপাঠীর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে তারা রাস্তায় দিনভর কেবল প্রতিবাদই করেনি, সেই সঙ্গে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নজির প্রদর্শন করেছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চালকের বয়স এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে, ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে তবেই সেই গাড়ি রাস্তায় চলতে দিয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা এক সপ্তাহের আন্দোলনের পর দেশের সব স্তরেই আড়মোড়া ভেঙেছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সরকারের পাশাপাশি সুধী সমাজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ মানুষ ভাবছে। শিক্ষার্থীদের প্রাসঙ্গিক দাবিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার পথ খোঁজা হচ্ছে।

পিডিএসও/হেলাল