তফশিলের আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়া ও স্থানান্তর চলবে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৯ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৬

গাজী শাহনেওয়াজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়া যাবে। একই সঙ্গে চলবে ভোটার এলাকা স্থানান্তর কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা কমিশনের মাঠ পর্যায়ের অফিসকে পত্র দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে ইসিতে অভিযোগ আসে, মাঠ পর্যায়ে ভোটার স্থানান্তর ও যোগ্যদের ভোটার করার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

গত জুন মাসে কমিশন থেকে নাকি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তপত্র দিয়ে মাঠ অফিসকে জানানো হয়। তবে, বৃহস্পতিবার সভায় ওই নিদের্শনা নিয়ে অলোচনার এক পর্যায়ে বলা হয়, কমিশন থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা তারা জারি করেননি। স্থানান্তর এবং যোগ্যদের ভোটার করা সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ নেই। পরে এ বিষয়টি পত্র দিয়ে জানানোর বিষয়ে একমত হন কর্মকর্তারা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

জানতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগের ডিজি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং পরিচালক (অপারেশন) মো. আবদুল বাতেনকে ফোন করা হয়। তবে তাদের মতামত পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত জুন থেকে নাকি যোগ্যদের ভোটার করা এবং ঠিকানা বদল বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসে।

এনআইডি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের দফতর থেকে এ ধরনের কোনো পত্র ইস্যু করা হয়নি। পরে জনদুর্ভোগ এড়াতে তফশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তর ও ভোটার কার্যক্রম চলবে- এ সিদ্ধান্ত হয়। কমিশনের মাঠ অফিসকে পত্র দিয়ে বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় নির্বাচনের সব স্তরের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলে অটোমেটিক ভোটারদের ঠিকানা বদল এবং নতুন ভোটারের নাম নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যায়। ভোটারদের ভোটদান কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত রয়েছে।

কারণ যেকোনো নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলে ঠিকানা বদল ও যোগ্য অনেক ভোটারের ভোটার তালিকায় নাম উঠানোর হিড়িক পড়ে। অথচ বছরজুড়ে নির্বাচনের খবর না থাকলে তখন ভোটার হওয়ায় তাদের থাকে না কোনো তোড়জোড়। স্থানীয় নির্বাচনে এর প্রভাব থাকে বেশি। নির্বাচন এলে অনেকেই প্রার্থী হতে তৎপর হয়ে উঠেন। কিন্তু নিজ নির্বাচনী এলাকা, ইউনিয়ন কিংবা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভোটার না হলে প্রার্থিতায় অযোগ্য হন। এ কারণে ঠিকানা বদলের হিড়িক পড়ে স্থানীয় নির্বাচনে বেশি।

অপরদিকে, সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং যেকোনো এলাকায় ভোটার হলে প্রার্থী হতে পারেন যে কেউ। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় অনেকেই ভোটার এলাকা বদলের আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু কমিশনের মাঠ কর্মকর্তারা তাদের ইসির ভুল নির্দেশনার কথা জানিয়ে বলছেন, ঠিকানা স্থানান্তর কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীর মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিষয়টি কমিশনের নজরে এলে ইসির নীতি-নির্ধারকরা বিস্মিত হন। পরে কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় স্পর্শকাতর বিবেচনায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তর চলবে।

তবে, সরকার পরিবর্তনের এ নির্বাচনের কার্যক্রমকে সুচারুভাবে শেষ করতে অতিপ্রয়োজন না পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আপাতত নতুন ঠিকানায় যেতে নিরুৎসাহিত করার জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। কারণ ভোটার সিডি প্রস্তুত করার পর একজন ভোটার ওই এলাকা ত্যাগ করলে নতুন করে ঝামেলা তৈরি হয়; যা ভোটার গরমিলের শামিল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি মেয়াদকাল নির্বাচনকালীন সময়। সংবিধান অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর ইসির সদিচ্ছা অনুযায়ী, আগামী ২৬ অথবা ২৭ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বিধায় ইসিকে ১৫-১৮ নভেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে হবে। তাই মধ্য নভেম্বরের আগ পর্যন্ত ভোটাররা ভোটার হতে যেমন পারবেন, তেমনি ঠিকানা স্থানান্তর করতে বাধা নেই।

পিডিএসও/তাজ