পৃথিবীর কোথাও এমন ‘নজীর’ নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৫ | আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০১

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে যেভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল তা নজীরবিহীন, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৮’ উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ মেগাওয়াট, চারদিকে হাহাকার, এদেশের অধিকাংশ মানুষের ঘরে আলো ছিল না। সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম আইন করে আমরা বেরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করি এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেই।

তিনি বলেন, আমরা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ১৬শ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াটে নিয়ে যেতে সক্ষম হই। সেইসাথে জেনারেটরের ওপর থেকে সকল ট্যাক্স তুলে দেই এবং শিল্প কারখানার মালিকদের বলে দেই, আপনারাও আপনাদের মতো বিদুৎ উৎপাদন করুন এবং সেই বিদ্যুৎ আশপাশে বিক্রিও করতে পারবেন। আমরা গ্রিড লাইন আপনাদের ভাড়া দেবো। কিন্তু, ২০০৯ সালে যখন সরকারে আসি তখন দেখি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ যা আমরা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকে কমে ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট হয়ে গেছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের জনগণের এ ধরনের তীক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তার জানা নেই উল্লেখ করে বলেন, ৫ বছরে কোনো দেশ এভাবে পিছিয়ে যায় সেটাও আমার জানা ছিল না। 

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৬ দশমিক ২৫ টাকা/কিলোওয়াট এবং বিক্রয়মূল্য রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮২ টাকা/কিলোওয়াট। কাজেই এখানে আমরা ভতুর্কি দিচ্ছি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ তা গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছি না। তবে, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা হয়তো রাখা সম্ভব হবে না। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন যত হতে থাকবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতে যতটা খরচ হবে ততটাই তাদের প্রদান করতে হবে। সেক্ষেত্রে আমার একটা অনুরোধ থাকবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় বন্ধের জন্য আমি অনুরোধ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনা করেছেন উল্লেখ করে বলেন, আমরা একটা বিমসটেক সোলার গ্রিড লাইন করে দিচ্ছি। এই আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইনের মাধ্যমে কে কত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা থেকে বাংলাদেশ কিনবে, এটা আমরা স্পষ্ট করে ফেলেছি। আঞ্চলিক সহযোগিতার যুগান্তকারী পদক্ষেপটা আমরা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছি।

তার সরকার বিগত সাড়ে নয় বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে বেশ কিছু আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষর করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সহযোগিতা চুক্তির আওতায় স্থাপিত দু’দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রথম গ্রিড আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ ক্ষমতা ১০০০ মেগাওয়াটে উন্নীতের কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় গ্রিড আন্তঃসংযোগ উদ্বোধনের মাধ্যমে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। ভারত হতে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটান থেকে জল বিদ্যুৎ আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত মাসেই তার সরকার নেপালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

‘অনির্বাণ আগামী’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানে এই জ্বালানি সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। জ্বালানি সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জ্বালানিবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদান এবং গৃহস্থালী, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গ্রাহকদের সম্মাননা দেয়া হবে।

নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচবিষয়ক মন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বলানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগে সরকারের সাফল্য ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহম্মদ রহমাতুল মুনিম বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

পিডিএসও/হেলাল