সাংবাদিক মোস্তাক হোসেন আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩৫ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তাক হোসেন  সোমবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। চার দিন ধরে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। 

সোমবার বাদ জোহর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তার প্রথম জানাজা এবং দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সাংবাদিক নেতারা। বাদ এশা ধানমন্ডির রায়ের বাজারে বায়তুল আমান মসজিদে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে মিরপুর জাতীয় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সাপ্তাহিক বিচিত্রা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মোস্তাক হোসেন প্রায় ১৭ বছর দৈনিক আজকের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। সেখানে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি একনিষ্ঠ থেকে আমৃত্যু বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে গেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মোস্তাক হোসেন জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর মাথাচাড়া দেওয়া একাত্তরের ঘাতক ও সাম্প্রদায়িক শক্তির মুখোশ উন্মোচন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকার, আলবদর, আল শামসের মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তাছাড়া জামায়াত নেতা গোলাম আজমের যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য গণ আদালত প্রতিষ্ঠায় দেশে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় আলোচিত কাভার স্টোরি করেন ২৫ মার্চের গণহত্যা বিষয়ে। সেখানে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিনি লেখেন ‘২৫ মার্চের ঢাকা : গণহত্যার সূচনা পর্ব’। মোস্তাক হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালেই সাংবাদিকতা শুরু করেন।

পিডিএসও/ হেলাল/ এআই