আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় দুর্নীতি বেশি : টিআইবি

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:০৯ | আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৩০

অনলাইন ডেস্ক

দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোতে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করে টিআইবি। জরিপে দুর্নীতিগ্রস্ত অপর শীর্ষ খাত হিসেবে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কে চিহ্নিত করা হয়।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস ভবনে টিআইবির কার্যালয়ে এ জরিপ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে টিআইবির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

টিআইবি জানায়, দুই বছর আগের জরিপের তুলনায় দুর্নীতির শিকার মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ঘুষের পরিমাণ বেড়েছে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ১৫টি খাতে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে টিআইবির ২০১৭ সালের সেবা খাতে দুর্নীতির জরিপে।

জরিপে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে ৬৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা আগের জরিপের তুলনায় এক শতাংশ কম। আর ঘুষ দিতে হয়েছে ৪৯ দশমিক আট শতাংশ। ঘুষ নেওয়ায় ক্ষেত্রে বিআরটিএর পরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও পাসপোর্ট খাত। আগের জরিপে যেখানে গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৩৮ টাকা, নতুন জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯৩০ টাকা।

আগের চেয়ে দুর্নীতি বেড়েছে গ্যাস, কৃষি, বিচারিক সেবা ও বিদ্যুতে, আর কমেছে শিক্ষা, পাসপোর্ট, স্থানীয় সরকার ও ভূমিতে। অন্যদিকে কৃষি, বিআরটিএ, বিচারিক সেবা ও বিমা খাতে ঘুষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।  

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাটি হচ্ছে যাদের দুর্নীতির মতো আইনের অপব্যবহার বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা, আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধ করা, তাদের সেই খাতগুলোতে কিন্তু দুর্নীতির ব্যাপকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শীর্ষস্থানে, মানে প্রথম সারিতে তাদের অবস্থান।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জন্য আরো উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে যে, ৮৯ শতাংশ মানুষ বলেছে যে তারা ঘুষ দিতে বাধ্য। কারণ ঘুষ না দিলে তারা সেবা পাবে না। অর্থাৎ যারা অনিয়ম করে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক ধরনের এটাকে এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, এটা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এর ফলে যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হয় তারা এটাকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ঘুষ না দিলে সেবা না পেলে যার সেবা পাওয়ার কথা সে কেন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হচ্ছে? তাকে কেন আমরা জবাবদিহিতার সম্মুখীন করতে পারছি না? 

টিআইবির জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। আর মাথাপিছু ঘুষ ৬৫৮ টাকা। শহরের তুলনায় গ্রামে ঘুষ-দুর্নীতি বেশি। আর ধনীদের তুলনায় গরিবদের ২০ গুণ বেশি অর্থ ঘুষে খরচ হয়। শিক্ষিতদের চেয়ে অশিক্ষিতদের খরচটাও বেশি। তবে তরুণরা অপেক্ষাকৃত কম ঘুষ দিয়ে থাকে।

ঘুষ-দুর্নীতি কমাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি সেবা খাতের ডিজিটালাইজেশন, তথ্য প্রকাশ ও তরুণদের সচেতনতা বাড়ানোসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। 

পিডিএসও/তাজ