১০০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে দ্বিমত

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১২:০২

গাজী শাহনেওয়াজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের যে প্রস্তুতির কথা ইসি সচিব বলেছেন, তা সম্ভব হবে না বলে মত দিয়েছেন নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত যে ইভিএম প্রস্তুত রয়েছে, তাতে সর্বসাকুল্যে ১০০ কেন্দ্রে ভোট নেওয়া যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। নির্বাচনের আগে আইন পাস, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট হবে। এ সংখ্যা ৩০০ সংসদীয় আসনের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে সক্ষম ইসি।

তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নির্বাচনমুখী দলগুলোর মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিভ্রান্ত্রির মধ্যে পড়েন। কমিশন সচিব ১০০ আসনে না সমসংখ্যক কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেওয়ার কথা বলেছেন, তা নিয়েও আলোচনায় মেতে উঠেন কেউ কেউ। সচিবের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে ইভিএম নিয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণা করেন এমন কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, এখন পর্যন্ত যতগুলো ইভিএম রয়েছে, এগুলো দিয়ে সব মিলিয়ে ১০০ কক্ষে ভোট নেওয়া যেতে পারে। আর দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রক্রিয়া আসন্ন সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা গেলে কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে ১০০ কেন্দ্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরে কমিশন সচিব তার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে রাতে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমি ১০০ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করব—ওইভাবে বলিনি। আমি বলেছি, পরিকল্পনা কমিশনে যে দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রস্তাব পাঠিয়েছি, তা দিয়ে কতগুলো আসনে ভোটগ্রহণ করা যায় তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তারা বলেছিল এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট নেওয়া সম্ভব।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি পরিকল্পনা কমিশন এসব ইভিএম কেনার অনুমোদন দেয়, তাহলে ইসি ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। এ বিতর্কে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দল দুটি এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এমনকি পাশের দেশ ভারতে ইভিএমে ভোট নেওয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও তর্ক-বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই ১০০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের কথা জানালেন ইসি সচিব।

এদিকে, দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচনে ব্যবহার উপযোগী করতে হলে নির্বাচনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা রয়েছে। এর পরও বড় ধরনের ঝুঁকি নিলে ১০০ আসন নয়; সর্বোচ্চ ১০০ কেন্দ্রে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল ৩০০ আসনের মধ্যে একটি করে কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে ইভিএম ব্যবহারের।

এর আগে দুপুরে কমিশন সচিব সাংবাদিকদের আরো বলেছিলেন, ইভিএম ব্যবহার করার আগে ভিত্তিস্বরূপ আইন দরকার। আগামী ৩০ আগস্ট আরপিও সংশোধন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হবে। তারপর সেটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন পাস হলে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না। জাতীয় নির্বাচনের পরই সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে, সেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল