আরপিও সংস্কারে ইসির বৈঠক আজ

বিচারিক কর্মকর্তারা অবাধ ক্ষমতা পাচ্ছেন

প্রকাশ | ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০৮:১৭ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫০

গাজী শাহনেওয়াজ

আরপিও সংস্কার নিয়ে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত ও ইভিএম-ডিভিএম প্রযুক্তির ব্যবহারসহ ৩০টিরও বেশি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করবে ইসি। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী যুক্ত হচ্ছে না। আর বিচারিক কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে অবাধ ক্ষমতা। সভায় যেসব প্রস্তাব অনুমোদন পাবে তা আইনে রূপ দিতে সরকারের কাছে পাঠাবে ইসি। সংসদের ২২তম অধিবেশন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। এ অধিবেশনে আইনটি পাস করাতে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করতে হবে ইসিকে।

ইসির একাধিক সূত্রমতে, ইসির প্রস্তাবিত এ সুপারিশে থাকছে না ‘আরপিও সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী’। রাখা হচ্ছে আলোচিত ইভিএম-ডিভিএম; এ প্রযুক্তির বৈধতা দিতে তড়িঘড়ি এ সংস্কারের উদ্যোগ বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রার্থী হতে লাগবে এক হাজার ভোটারের স্বাক্ষর ও বিধান থাকছে অনলাইনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা। তাছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ও বদলির সুপারিশ রাখা হচ্ছে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া এ সুপারিশে। সুযোগ রাখা হচ্ছে ঋণখেলাপিদের মনোনয়নপত্র জমার আগ পর্যন্ত প্রার্থীদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং দুজন প্রার্থীর ভোটের ফল সমান হলে বিদ্যমান লটারির বদলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে জনপ্রতিনিধি।

জানা যায়, আরপিওর ৯১ (১) ধারায় সংশোধনী এনে বিচারিক কর্মকর্তাদের অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনী অপরাধের জন্য সামারি ট্রায়াল করে শাস্তি দিতে পারবেন। এমনকি অপরাধের শাস্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনকে সুপারিশ জানাতেন। প্যানেল কোডে যেভাবে অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে, তার আলোকে সাজা দেবেন এসব কর্মকর্তারা। নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের শাস্তি বাড়ছে। আরপিওর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত হচ্ছে না সেনাবাহিনী। কমিটির ভাষায়, প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশরক্ষা বাহিনী। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তারা নির্বাচনের কাজে যুক্ত হবেন।

কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব ও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা নির্দিষ্ট রাখতে ব্যয় মনিটরিং কমিটি ও অডিটের নিমিত্তে আলাদা কমিটি গঠন, নির্বাচনে অভিযোগ দাখিল ও তা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এ বিধান সংযোজন, নির্বাচনে কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাজা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন তিন বছর করার বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, নির্বাচনী অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে জানিয়ে দেওয়া, প্রার্থীদের জামানত ফি বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা এবং তা অফেরতযোগ্য বিধান যুক্ত করা, প্রার্থীদের হলফনামায় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি মার্কশিট সংযোজনের বিধান সংযোজন, সংসদ নির্বাচনে বড় জেলায় দুজন রিটানিং কর্মকর্তা নিয়োগের ফলে জটিলতা তৈরি হয়, তাই এটা নিরসনে জেলার পাশাপাশি আসন শব্দটি যোগ করা এবং নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়ম রোধে নিজস্ব কর্মকর্তাদের স্থায়ী দায়িত্ব পালনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ থাকছে আইন সংস্কার কমিটির সুপারিশে। একইভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা ওই প্রার্থীর জন্য ছিল মরার ওপরে খাড়ার ঘাঁ। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নামসর্বস্ব সব দলই ওই বিধানের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ১ শতাংশের বিধান তুলে দিয়ে ভোটার নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটার সংখ্যা এক হাজার নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। এদিকে, ইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রোববার কমিশন বৈঠকে দুটি এজেন্ডা রয়েছে—একটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর সংশোধন এবং অপরটি আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ফেমবোসা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে।

উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচন উপলক্ষে দেড় লাখ ইভিএম কিনছে ইসি। এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হলে আইনি সংশোধন লাগবে। কিন্তু ইভিএম নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি। এদিকে, গত বছর জুলাইয়ে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে এতদিন বসে থাকার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের দুমাস আগে ফের তোড়জোড় শুরু হলো। অথচ জাতীয় নির্বাচনের আগে আরপিও সংস্কার করা হবে না বলে আগাম জানিয়ে ছিলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তবে গত সপ্তাহে ইভিএম ব্যবহারসহ সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে কমিশনে আলোচনার কথা জানান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, আরপিও সংশোধন নিয়ে দুটি কমিশন বৈঠকও হয়েছে। সেখানে কিছু সংশোধন বা আরো কিছু প্রস্তাবনা এসেছে। এখন এটি কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল