বিনম্র শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫২ | আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ২২:০৯

অনলাইন ডেস্ক
ছবি : রূপম ভট্টাচার্য

রাজধানীর পথে পথে কালো পতাকা। বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে সেই অবিস্মরণীয় ভাষণ, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর সঙ্গে দেশাত্মবোধক গান অবিরাম বেজেছে সারা দিন। অগণিত মানুষ শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়েছেন তার প্রতিকৃতি। বুধবার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এভাবেই অবনত মস্তকে স্মরণ করেছে জাতি।  

প্রথমে সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানোর পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ৩২ নম্বর চত্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে রাসেল স্কয়ার থেকে কলাবাগান পর্যন্ত রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। 

এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। 

বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের অন্য শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।  এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানা ও অন্যদের নিয়ে ফাতেহা পাঠ ও পিতা বঙ্গবন্ধু, মাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের  রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন।  

সেখানে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী শোক দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  এরপর গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী, ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

এদিকে, দেশব্যাপী সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে পালিত হয়েছে। ভোরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিসবটি উপলক্ষে আগের দিন মঙ্গলবার রাত থেকেই রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হয়। আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাড়া-মহল্লায় সুস্থদের মধ্যে খাবার বিরতণ করা হয়।  

পিডিএসও/তাজ