৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে প্রতিদিন

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৮ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৯

পাঠান সোহাগ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত রেল কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে ট্রেনে দিনে প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী চলাচল করে। কিন্তু ঈদে সেই যাত্রী এসে দাঁড়ায় তিন লাখে। অর্থাৎ ঈদের আগে ও পরে ১১ দিনে ঢাকা থেকে লালমনিরহাট, খুলনাসহ বিভিন্ন রুটে ৩০ লক্ষাধিক যাত্রী রলে চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রীর এই বিশাল চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রেল কর্তৃপক্ষও। ঈদের সময়ে চলবে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ৮ আগস্ট থেকে। টিকিট বিক্রি শেষের দিকে। আর প্রথম যাত্রা শুরু হবে ১৭ আগস্ট থেকে। ফিরতি টিকিট দেওয়া হবে ১৫ আগস্ট থেকে। আর ফিরতি যাত্রা শুরু হবে ২৪ আগস্ট। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে (টিকিট থাকাসাপেক্ষে) বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও ১৫০টি যাত্রীবাহী বাড়তি বগি প্রস্তুত। এসব বিশেষ ট্রেনের মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও চাঁদপুর স্পেশাল-২ চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে, রাজশাহী স্পেশাল চলবে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে, দিনাজপুর স্পেশাল চলবে দিনাজপুর-ঢাকা-দিনাজপুর, লালমনির স্পেশাল চলবে ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা রুটে, খুলনা এক্সপ্রেস চলবে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে। এছাড়া শোলাকিয়া স্পেশাল-১ চলবে ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ ভৈরববাজার রুটে এবং শোলাকিয়া স্পেশাল-২ চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১ হাজার ৪০২টি কোচ চলাচল করবে এবং ২২৯টি লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামাল দিতে ঈদের আগের পরের প্রতিদিন ৯ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব প্রকার আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বিরতি বাতিল করা হবে। তবে ঈদের দিন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না। মানুষ যাতে রেলপথে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে এবং ছুটি শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনগুলোর ফ্যান, লাইট, টয়লেট, সিট, বগি, প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগারসহ সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ও পাওয়ার কার চেক করে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে মেরামত করা হচ্ছে। এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য রিলিফ ট্রেন ও জনবল প্রস্তুত রাখারও নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবারের ঈদে যাত্রীদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে রেলস্টেশন, লাইন ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে টিকিট কালোবাজারি, অজ্ঞানপার্টি, পকেটমার ও ছিনতাই প্রতিরোধে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের বিশেষ টিম কাজ করবে। এ লক্ষ্যে কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও দিনাজপুরসহ অন্য বড় স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া যাত্রীদের সচেতন করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ২৬টি ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ১০টি কাউন্টার থেকে একযোগে টিকিট বিক্রি হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৭ আগস্ট সারা দেশের উদ্দেশে ৩১টি আন্তঃনগরসহ মেইল, লোকাল ও স্পেশাল আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। মেইল ও লোকাল সার্ভিসের টিকিট যাত্রার দিন দেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল