‘মায়ের অনবদ্য অবদানেই সংগ্রামে বাবার সফলতা’

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৫৯ | আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৩

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফলতার পেছনে শেখ ফজিলাতুননেসার অনবদ্য অবদান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মায়ের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তার ত্যাগের কথা স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মায়ের সময়োচিত সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। যেকোনো সংকটে আমার মায়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল।’

আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মায়ের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আব্বা মায়ের মতো একজন সঙ্গী পেয়েছিলেন বলেই সংগ্রাম করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছিলেন।’

ওই সময় ৬ দফা দেওয়ার পর তার পক্ষে জনমত তৈরিতে বঙ্গবন্ধু যেখানেই জনসভায় করেছেন, সেখানেই তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অন্তরীণ করে তার বিচার শুরু হয়। কিন্তু অসহযোগ আন্দোলনের একপর্যায়ে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন আইয়ুব খান। কিন্তু ফজিলাতুননেছার জন্যই বঙ্গবন্ধু ওই বৈঠকে যেতে পারেননি। 

সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আব্বাকে প্যারোলে নিয়ে যাবে। আমাদের প্রায় সব নেতাই রাজি ছিলেন যে, না আব্বা প্যারোলে যান। কিন্তু আমার মা কখনোই এর সঙ্গে একমত ছিলেন না।’

মায়ের নির্দেশে বাবার সঙ্গে দেখা করার স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি ওখানে গিয়ে দেখি, আমাদের বড় বড় নেতারা সবাই কিন্তু ভেতরে। এনারা ভেতরে। কিন্তু আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি কিন্তু গেটের বাইরে দাঁড়ানো।’ 

সবার অন্তরালে বাবার কাছে মায়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আব্বা কথা বলতে বলতে যখন দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন, দেখলেন আমি দাঁড়ানো, নিচু কাঠের গেট। ওখান থেকে উনি আমাকে আদর করার জন্য গলাটা জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘কোনো চিঠি-টিঠি দিস না, তোর মা কী বলেছে বল’। আমি শুধু বললাম, ‘মা এখনো প্যারোলে যেতে নিষেধ করেছে, কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছে। উনি ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় চেয়েছেন, সময় পেলে উনি আসবেন। মা নিষেধ করেছে যেতে, আপনি কিন্তু যাবেন না’।” 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ কী চায়— তা বোঝা, জনমত সৃষ্টি করার পেছনে তার মায়ের বিরাট অবদান ছিল। জীবনের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে, ভোগবিলাস বিসর্জন দিয়ে আমার বাবার পাশে থেকে এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন আমার মা। আমার বাবার পাশে থেকে যেভাবে তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা না করলে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম কি না।’ 

মায়ের বুদ্ধিমত্তার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৬৬ সালের মে মাসে আব্বাকে গ্রেফতার করার পর ৭ জুন একটা হরতাল দেওয়া হয়। সেই হরতালটাকে সংগঠিত করা, কার্যকর করা— এসব কাজ কিন্তু আমার মা করেছে।’ 

এ ছাড়া  তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি এড়িয়ে ফজিলাতুননেছা কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করেছেন, তারও বর্ণনা দেন শেখ হাসিনা। 

পরিবারের সবাইকে হারানোর কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরাজিত শক্তি, তাদের দোসর পাকিস্তানি বাহিনীর যারা দালাল, যারা স্বাধীনতা চায়নি, দেশে থেকেও যারা মোনাফেকি বেইমানি করেছে, তারাই তো ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটাল। আমার মাকেও ছাড়েনি।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন বক্তব্য দেন। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা; স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম। সূত্র : বাসস

পিডিএসও/তাজ