‘সেনাবাহিনী সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে’

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৮, ২০:৪২ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:১২

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। যারা সুশিক্ষিত, কর্মক্ষম, সচেতন, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ী সেই সব কর্মকর্তার কাছে নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে। আজ রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদরের হেলমেট কনফারেন্স কক্ষে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৮’-এ প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। ‘আপনাদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার-বিশ্লেষণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে।’

সেনাবাহিনীর যেসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের ওপর আস্থা রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে আপনারা ন্যায়নীতির ভিত্তিতে উপযুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচনে সর্বতোভাবে সফল হবেন।’

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য ট্রেইস (Tabulated Record and Comparative Evaluation) পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে, যা পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন দিকের তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করে। নির্বাচনী পর্ষদ উপযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের কথা স্মরণ করেন। ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন এবং ১৯৭২ সালে কুমিল্লায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা তিনি মনে করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত, পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা প্রণীত নীতিমালার আলোকে আমরা ‘আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছি।’ 

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনীর উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। তবে তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে।’ সেনাসদস্যদের মনোবল বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ট্রাস্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন।

সেনা আবাসন প্রকল্প এবং বহুতল সরকারি পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণ করা, সেনাসদস্যদের উন্নত মানের ও বর্ধিত স্কেলে রেশন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দুস্থ ভাতা বাড়ানোর কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীর কমান্ডো সদস্য, অ্যাভিয়েশন ইউনিটের বৈমানিকদের উড্ডয়ন ঝুঁকি বীমার আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা এবং নানা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।’ 

রোহিঙ্গা সংকটে সেনাবাহিনীর কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করছে।’ 

এই বৈঠকে বক্তব্য দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা-বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। 

পিডিএসও/তাজ