ইসলামের শিক্ষাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ১৪:২৮ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ঢাকায় আশকোনা হজক্যাম্পে হজ কার্যক্রম ২০১৮-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ কার্যক্রম ২০১৮-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনকালে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের শিক্ষা মানুষের কাছে যেন উচ্চ আসনে থাকে সেটা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু কিছু লোক নিজস্ব স্বার্থে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের জন্য, সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

বুধবার বিমানবন্দর আশকোনা হজক্যাম্প এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনে মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন। হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসাসরিক কর্মকর্তা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হজযাত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ যখন ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ড করে এবং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন বিশ্বে মুসলমানদের হেয় হতে হয়। পবিত্র ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এই ধর্মেই আছে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্র্ম পালন করবে। আমাদের নবী করিম (সা.) -ও সে কথা বারবার বলে গেছেন। কিন্তু, তারপরেও কিছু কিছু মানুষের অপকর্মের জন্য ইসলামকে অবমাননা করা হয়। যে অধিকার কারোরই নাই।

শেখ হাসিনা এ সময় জাতির পিতার ভাষণের একটি উদ্বৃতি দিয়ে ইনসাফের ইসলাম কায়েমের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক বেতার ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করীম (সা.)-এর ইসলাম, যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতি বছর আমি অপেক্ষা করে থাকি যারা হজে যাবেন তাদের সঙ্গে একটু সাক্ষাৎ হবে এবং আপনাদের কোনো অসুবিধা থাকলে শুনে নেব এবং সেইসাথে আপনাদের দোয়াও চাইব।

তিনি বলেন, আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদীনা নগরীতে আপনারা নবী করিম (সা.) পবিত্র রওজা পাক জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের উল্লেখ করে সেদিনের শাহাদত বরণকারীদের জন্য হজযাত্রীদের কাছে দোয়া কামনা করেন।

তিনি বলেন, আপনারা তাদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসীব করেন। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর তাকে দেশে ফিরতে দেয়া হয় নাই এবং ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই, এই দেশের মানুষষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে সেটাই আমার লক্ষ্য। এবং গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কি পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ইসলামের প্রচারে জাতির পিতার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী প্রেরণ করেন। যদিও সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভবপর হয়েছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার দূরদর্শীতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।

জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদরাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ করেন। ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কুরআন তেলাওয়াতের প্রচলন করেন।

পিডিএসও/হেলাল