প্রাণহানির আশঙ্কায় বন্ধ আফতাবনগর পশুর হাট

বসবে তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠে

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৭:১০

হাসান ইমন

প্রাণহানির আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের (আফতাবনগর) অস্থায়ী পশুর হাটটি। এতে কোরবানির পশু কেনাবেচায় দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে গুলশান, বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরা, শাহজাদপুরসহ আশপাশের বসবাসকারীদের। এছাড়াও হাটটি বন্ধ হলে কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সংস্থাটি। তবে তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল কলেজ মাঠটি নতুন করে পশুর হাট হিসেবে বিবেচনা করেছে ডিএনসিসি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবার সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় প্রাথমিকভাবে ৭টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) অস্থায়ী পশুর হাটটি প্রাণনাশের আশঙ্কায় বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসিসির এই পশুর হাটটি গুলশান, বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরা, ভাটারা, শাহজাদপুর, তেজগাঁও, মগবাজারসহ আশপাশের অনেক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই হাটটি থেকে প্রতি বছর প্রায় অর্ধশত লাখ পশু কেনাবেচা হয়। কিন্তু এ বছর প্রথমবারের মতো আফতাবনগর হাটটি স্থগিত করেছেন ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই হাট থেকে কোরবানির পশু কিনে থাকি। কিন্তু এ বছর হাট না বসালে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে আমাদের খুব ভোগান্তি হবে।

জানা যায়, শুরু থেকে আফতাবনগর হাটটির ইজারা দিত ঢাকা জেলা প্রশাসক। গত ৩ বছর ধরে এই হাটটির ইজারা দিচ্ছে ডিএনসিসি। গত বছর আফতাবনগর হাট থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে ডিএনসিসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, এই হাট নিয়ে আগে পরে কোনো ঝামেলা হয়নি। কিন্তু এবার এখানে হাট বসাতে মেয়র কেন অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন তা আমরা জানি না। এখানে হাট না বসালে আমরা কোটি টাকার রাজস্ব হারাব। এই এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় পাশের মেরাদিয়া হাট থেকে পশু ক্রয় করবেন। আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি বড় অঙ্কের টাকা লুপে নেবেন এই হাটের ইজারাদার।

এই বিষয়ে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি বলেন, এই হাটটিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এখানে প্রচুর চাঁদাবাজি হয়। চাঁদার পরিমাণ কম হলে এখানে খুন খারাবির হয়ে থাকে। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসের ব্যবধানে বাড্ডায় কয়েকটি মার্ডার হয়েছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে আফতাবনগর হাটটি এ বছর স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডিএনসিসি এলাকায় এবার ৮ স্থানে বসছে কোরবানির পশুর হাট। হাটগুলো হলো উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের প্রথম গোলচত্বর সংলগ্ন খালি জায়গা, ভাটারা (সাঈদ নগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনের জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএস সংলগ্ন উত্তর পাশের সেতু প্রোপার্টি হাউজিংয়ের ফাঁকা জায়গা, আশিয়ান সিটির খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল হাট। এই হাটগুলোর জন্য এরই মধ্যে তিনটি ধাপে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএনসিসি। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র শিডিউল বিক্রির শেষ তারিখ ১১ জুলাই বুধবার নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময়। একই দিন বিকাল ৩টায় দরপত্র বাক্স ও খাম খোলার সময় নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

দ্বিতীয় ধাপে ২৩ জুলাই দরপত্র শিডিউল বিক্রি এবং ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। একই দিন বিকাল ৩টায় দরপত্র বাক্স ও খাম খোলার সময় নির্ধারণ করেছে। তৃতীয় ধাপে দরপত্র শিডিউল বিক্রির শেষ তারিখ ৫ অগাস্ট ঘোষণা করেছে। ৬ অগাস্ট সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া এবং বিকাল ৩টায় দরপত্র বাক্স ও খাম খোলার শেষ সময় ঘোষণা করেছে ডিএনসিসি।

পিডিএসও/রিহাব