সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ১০:১৬

মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান

আজ বুধবার, পবিত্র মাহে রমজানের ২৭তম দিন। আর নাজাতের দশকের সপ্তম দিন। দেখতে দেখতে আমরা একেবারে রমজানের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি। আর মাত্র ২-৩ দিন বাকি আছে। এরপরই আসছে ঈদুল ফিতর। আর ঈদুল ফিতরের দিনের অন্যতম আমল হলো সদকাতুল ফিতর। ইসলামে সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি জাকাতেরই একটি ধরন। রাসুল (সা.) হাদিস ও সুন্নাহ তা আদায়ের তাগিদ করেছেন এবং এর নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণেই রাসুলের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ইসলামের পাঁচ রোকন ও দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো সদাকাতুল ফিতরও নিয়মিত আদায় করে আসছে। আমাদের এ অঞ্চলে তা ‘ফিতরা’ নামে পরিচিত।

ঈদের আনন্দে যেন মুসলিম জাতির প্রতিটি সদস্য শরিক হতে পারে এ জন্য ফিতরা ওয়াজিব করা হয়েছে। এতে রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতিও পূরণ হয়ে যায়। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত ‘রাসুল (সা.) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয় তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং- ১৬১১)। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সদকায়ে ফিতর আদায় করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার রোজা জমিন ও আসমানের মাঝখানে ঝুলন্ত থাকে’ (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং- ২৪১২৯)।

ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে সদকাতুল ফিতর ও জাকাতের মধ্যে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এমন সম্পদ হতে হবে। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে এমনটি নয়। জাকাতের সম্পদ পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হয়, কিন্তু সদকাতুল ফিতর তাৎক্ষণিক ওয়াজিব হয়। (ফাতহুল ক্বাদির, ২/২৮১) এমনকি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় কোনো নবজাতক দুনিয়ায় আসলে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে, তার পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৯২)

সন্তানের প্রাপ্তবয়স হওয়ার পর পিতার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে পিতা যদি সন্তানের পক্ষ হয়ে আদায় করে দেন, তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে। তেমনি স্বামী স্ত্রীর সদকাতুল ফিতর আদায় করেন, তাহলেও তা হয়ে যাবে (দুররুল মুখতার ৩/২৮৫)। তাই আমাদের সকলের কর্তব্য হলো, খুশিমনে সদকাতুল ফিতর আদায় করা, যাতে করে পরস্পরে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়, অসহায়, গরিব ও ঋণগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা হয় এবং নিজের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয়। সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদত আদায়ের সৌভাগ্য অর্জিত হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমিন।