নাজাতের দিনগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৮, ০৩:৩৩

মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান

আজ সোমবার। পবিত্র মাহে রমজানের ২৫তম দিন। আর নাজাতের পঞ্চম দিন। রমজান বিদায়ের ঘণ্টা বাজাচ্ছে। রমজানের শেষ দশক চলছে। আর মাত্র ৪-৫ দিন বাকি আছে। আমরা যদি বিগত দিনগুলোতে সিয়াম সাধনার ক্ষেত্রে অলসতা করে থাকি, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোতে যারপরনাই চেষ্টা করে যাওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে। মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশক যেভাবে অতিবাহিত করেছেন সেভাবে অতিবাহিত করার সাধনা করতে হবে। রাসুল (সা.) রমজানের প্রথম ২০ দিনের রাতগুলো নামাজ ও নিদ্রা উভয়টির মধ্যদিয়ে কাটাতেন, আর শেষ ১০ দিন কাটাতেন অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে। এ ১০ দিন তিনি বিছানা পরিত্যাগ করতেন, স্ত্রীসঙ্গ পরিত্যাগ করতেন, বরং স্ত্রীগণকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আলী ও ফাতিমা (রা.) এর দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন, ‘তোমারা কি উঠবে না? নামাজ পড়বে না?’ তিনি দরজায় কড়া নাড়তেন এবং মহান আল্লাহর সেই পবিত্র বাণী পাঠ করতেন যাতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার পরিবার-পরিজনকে নামাজ আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই তোমাকে রিজিক দিই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্য (সূরা ত্বহা, আয়াত : ১২০)।’

আমল ও কর্মের সুফল ধর্তব্য হয় তার পরিণতি দ্বারা। তাই রমজানের এ শেষ দশকে আমাদেরকে খুব বেশি চেষ্টা-সাধনা করতে হবে। কেবল তো হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন মাত্র আছে। শেষ দশকের এ সময়টা ইবাদত, বন্দেগি এবং কল্যাণ অর্জনের শ্রেষ্ঠ ও সেরা সময়। নৈকট্য ও সাধনার জন্য এটা সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম। বরকতময় এ মাসের পুরোটা সময়েই ইবাদত করা উত্তম হলেও শেষ দশকের ইবাদত হলো আরও বেশি উত্তম ও কল্যাণকর। তার প্রতিদান আরো বেশি এবং তার মর্যাদা আরো শীর্ষে। এই শেষ দশক হলো সব ভুলত্রুটি শোধরানো, গোনাহ ও পাপ মোচন এবং দোয়া কবুলের দশক। এজন্য রাসুল (সা.) এ সময় এত চেষ্টা-সাধনা করতেন, যা অন্য সময় করতেন না। এ সময়টা আসলেই তিনি কোমর বেঁধে নামতেন। রাত জাগতেন। পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। তাই এ সময়টুকুতে যে লাভবান হয়েছে এবং তার কল্যাণ ও পুণ্য অর্জন করতে পেরেছে, তার জন্য সৌভাগ্যের সুসংবাদ। এই শেষ দশকে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে রাতে রহমত বর্ষিত হতে থাকে। দোয়া কবুল করা হয়। তাই আমাদের সকলেরই উচিত হলো এ রাতের প্রতি যতœশীল হওয়া। আমীন।

"