রমজানে কেনাকাটায় মিতব্যয়িতা জরুরি

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ০৩:২১

মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান

আজ শনিবার, পবিত্র মাহে রমজানের ২৩তম দিন। আর নাজাতের ১০ দিনের তৃতীয় দিন। রহমত, মাগফিরাত, নাজাত এবং বিরাট ফজিলত বরকতের মাস রমজান। রমজানে রয়েছে লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাত। রয়েছে রমজানের শেষ দশকে এতেকাফের মতো বরকতময় ইবাদত। রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। তাই মূল্যবান সময়কে ইবাদতের মধ্য কাটাতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব সত্য হলো এই যে, রমজান যত বাড়তে থাকে আমাদের ইবাদতের পরিমাণও তত কমতে থাকে। রমজানের প্রথম ১০ দিন মসজিদে যে পরিমাণ মুসল্লি পাওয়া যায় রমজানের শেষে তা আর পাওয়া না। দেখা যায় মানুষ নামাজের সময় নামাজ বাদ দিয়ে কেনাকাটা ও দুনিয়াবি কাজকর্মে মশগুল থাকে।

রমজানের রোজার হক আদায় করতে হলে দুটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। এক. আল্লাহর কোনো নাফরমানি ও গোনাহ করা যাবে না। তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হলে রোজার হক যথাযথ আদায় হবে না।

সুরা মু’মিনুনের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা খাঁটি মোমিনের গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘যারা অযথা কাজ থেকে বিরত থাকে।’ সাধারণত অযথা কাজগুলো গোনাহ নয়; তবে অযথা কাজের কারণে কোনো ফরজ ইবাদতে বিঘœ ঘটলে তা গোনাহে পরিণত হয়। বিষয়টি মনে রাখা উচিত।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবসত্য হলো এই যে, রমজানে কেনাকাটার পেছনে পরে আমরা অনেক সময়ই নামাজ কাজা করে ফেলি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, রমজান ও ঈদ আমাদের সামনে আসে শুধু কেনাকাটার জন্যই।

রমজানের বাজার-সদাই ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রমজান শুরুর আগেই শেষ করা উচিত। যে সমস্ত বাজার ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায় সেগুলো রমজানের আগেই কিনে ফ্রিজে রেখে দেওয়া উচিত। কিন্তু নতুন নতুন জামাকাপড়, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার পেছনে পড়েই আমরা ইবাদতের সময় নষ্ট করি বেশি। যা করা ঠিক না।

মোটকথা, রমজান ইবাদতের মাস, কেনাকাটার মাস নয়। কেনাকাটা করতে গিয়ে যেন ইবাদতের মহাসুযোগ হাতছাড়া না হয়ে যায়Ñ এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। অযথা সময় নষ্ট না করে আমরা যেন আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকি। আল্লাহ আমাদের রমজানের সময়গুলো সুযোগ কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

"