মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে : পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১৪:২২

অনলাইন ডেস্ক

মানবিক আচরণ করে জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে নারী, শিশু ও প্রবীণদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে বাহিনীটির সহকারী পুলিশ সুপারদের ৩৫তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ পবরর্তী কুচকাওয়াজে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে এই এএসপিরা এখন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত।

বেলা ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী সারদার পুলিশ একাডেমিতে যান। পরে প্যারেড মাঠে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে গিয়ে নবীন পুলিশের সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন। পরে একটি খোলা জিপে চড়ে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে শপথ নেয় পুলিশের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা পুলিশ সদস্যরা। তারা স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়েও শপথ নেয়। এ সময় প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে পদকও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর রাজারবাগে পুলিশের প্রথম প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানান। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বাহিনীটির প্রশংসা করেন। জনগণকে যথাযাথ সেবা দেয়ার ইচ্ছার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ সদস্যদের আহ্বান জানাব জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে। তার জন্য দরকার চৌকশ, পেশাদার, দক্ষ, জনবান্ধব পুলিশ। আমরা সেটা গঠন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আমরা পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

মানুষের বিপদের সময় পুলিশের কাছেই সাহায্য চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কথা সব সময় মনে রেখে তাই মানুষকে সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজে নারী, শিশু ও প্রবীণদের সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সম্পৃক্ততার সঙ্গে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশ বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ যেন সুখী সমৃদ্ধ, উন্নত জীবন যাপন করতে পারে।

পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বাড়ানো, ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো, পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহন ও সরঞ্জাম সরবরাহ, বিভিন্ন ইউনিট গঠন, পুলিশের পদের মর্যাদা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন এই পুলিশ একাডেমিকে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ, মাঠ, আবাসিক ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত আরও উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই করার অঙ্গীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ একাডেমিকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জামাদি ও লজিস্টিকস সরবরাহ আমরা অব্যাহত রেখেছি। একাডেমিতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, ফরেনসিক ডেমোনস্ট্রেশন ল্যাব, ড্রাইভিং, শুটিং, সিমুলেটর যুযোগযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পুলিশের সকল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন করা, এটা আমাদের বিবেচনা রয়েছে। কারণ, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে বাঙালি জাতিকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়ে সকলকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।

ব্যাধির মতো মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, একেকটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই মাদকের হাত থেকে এই জাতিকে রক্ষা করতে হবে। কাজেই এ বিষয়ে আপনাদেরকে কাজ করতে হবে। মাদক সেবনকারী, সরবরাহকারী, মাদক ব্যবসায়ী বা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন জঙ্গি দমনে আপনারা সফল হয়েছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশ থেকে মাদক দূর করার ক্ষেত্রেও আপনারা সাফল্য অর্জন করবেন।

পিডিএসও/হেলাল