সবার দৃষ্টি খুলনায়

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০৭:৪২ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৮, ১০:২৩

প্রতীক ইজাজ

নির্বাচন সিটি করপোরেশনের। কিন্তু আবহ তৈরি হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের। সাত মাস পর আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের জয়-পরাজয় জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে ধরে নিয়েই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দুই পক্ষই মরিয়া জয় পেতে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা এই নির্বাচনকে দেখছে মানসম্মান ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে। অন্যদিকে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বিএনপির জন্য বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের শক্তি ও মাঠ যাচাইয়ের নিয়ামক হিসেবে। দুই দলের জন্যই সতর্ক বার্তাও। এমনকি এই নির্বাচন রীতিমতো অগ্নি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের জন্য। কেননা নির্বিঘ্নে ভোটদান ও শান্তিপূর্ণ ফলাফল প্রকাশসহ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করে নিজেদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ফলে খুলনা ছাপিয়ে এই নির্বাচন গোটা দেশের মানুষের আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার মধ্যেই টানটান উত্তেজনা ও উদ্বেগ। শেষ মুহূর্তের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার ব্রত নিয়ে প্রস্তুত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্রার্থীর লোকজন, দলীয় নেতাকর্মীরা। সতর্ক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রস্তুত ভোটাররাও। শেষ পর্যন্ত কে হাসেন জয়ের হাসি—সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।

এমন ত্রিশঙ্কু অবস্থার মধ্যেই আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন। এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্য থেকেই একজন মেয়র এবং ১৩১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন ভোটাররা। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন।

একেবারেই শেষ মুহূর্তে এসে গতকাল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নে নানা বিষয়ে পরস্পরেরর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এমনকি হুমকি-ধমকির অভিযোগও উঠেছে। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির আশংকা করছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কমিশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও এনেছেন। অন্যদিকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে পুনরায় নিজেদের সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা।

ভোটের আগের দিন গতকাল সোমবার নির্বাচনে সরকারি দল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচনের ফলকে নিজেদের অনুকূলে নিতে মরিয়া সরকারি দল। সেজন্য নানা কৌশল নিচ্ছে তারা। রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমনকি ভোটের মাঠ নিজেদের দখলে নিতে সরকারের বিরুদ্ধে গণগ্রেফতারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ এনেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ওই অভিযোগ তো আমি করব। কারণ, ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমার ছিল তালা মার্কা। বিএনপি ওই মার্কা ঝুলিয়ে সব জায়গায় ভোট দিয়েছে। এবারো শুনেছি তারা নৌকার ব্যাজ তৈরি করেছে। ওই ব্যাজ পরে তারা ভোটের দিন কাজ করবে। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং তো আমি করি না। ইঞ্জিনিয়ারিং করে গতবার আমাকে হারানো হয়েছে। সেটা আজও দৃশ্যমান।’

দুই প্রার্থীর এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলেছেন দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। গতকাল কুষ্টিয়ার নিজ বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, জনগণ তালুকদার আবদুল খালেককে ভোট দিতে চায়। তিনি আরো বলেন, খুলনার জনগণই বলছে, তারা তালুকদার আবদুল খালেককে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। কারণ তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

অন্যদিকে রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারের পাশাপাশি খুলনা সিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তান্ডব চলছে। তিনি বলেন, সেখানে (খুলনায়) বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের জন্য অঘোষিতভাবে চলছে কারফিউ আর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চলছে ফাঁকা মাঠে উৎসব।

তবে খুলনার পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্র্যালোচনা করে ভালো নির্বাচনের আভাস পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী। কেন্দ্রে এসে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা-ধানের শীষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেমার সভাপতি মুনিরা খান জানান, খুলনায় নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। নির্বাচন কমিশনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ এ নির্বাচনটি ভালোভাবে সম্পন্ন করার। সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। ইসির সদিচ্ছা ও ক্ষমতার প্রয়োগ মানুষ দেখতে চায়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইসির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সেক্ষেত্রে অনেক বেশি নির্ভার মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বা তার অনুসারীদের মধ্যে। ভোটে জিতে গেছেন, শেষ সময়ে এসে এমনই মনোভাব এখানকার সরকারি দলের নেতাদের। অন্যদিকে নানা শংকা দেখা গেছে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও তার অনুসারীদের মধ্যে। তাদের মূল ভাবনা, ভোটের দিন শেষ সময়ে সরকারি দল কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কূটকৌশলের আশ্রয় নেয় কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এজন্য ব্যালট পেপার ভোটের দিন ভোরে কেন্দ্রে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

অবশ্য সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে কোনো ব্যাপারে ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার পক্ষে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে যাতে নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। কেউ আইন ও বিধিমালা লংঘনের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেশ কিছু কারণে খুলনা সিটি নির্বাচন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে এখানে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলই জেতার জন্য মরিয়া। দুই দলই এমন দুজনকে প্রার্থী করেছে, যারা শুরুতে এই ভোটে আসতে চাননি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের প্রার্থী হতে বাধ্য করেছে। দুজনই শক্ত প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের মতে ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে বিএনপি ছিল কিছুটা নির্ভার। ধরে নিয়েছিল তারা এগিয়ে আছে অনেক। আর সরকারি দল আওয়ামী লীগ কিছুটা শংকায় ছিল। তাই শংকা কাটাতে সরকারি দল সর্বতোভাবে চেষ্টা করছে। ফলে শেষ দিকে এসে আওয়ামী লীগ জেতার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। জয়ের পক্ষে নানা সূচকও লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন পেশাজীবীরা মাঠে ছিলেন। খুলনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একটা বড় অংশও সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় একটা জনগোষ্ঠী এ শহরের ভোটার। তাদের পক্ষে টানতে ওইসব জেলা-উপজেলার কল্যাণ সমিতিও আওয়ামী লীগের পক্ষে। এমনকি বিএনপির কয়েকটি ভোটব্যাংকও নিজেদের পক্ষে নিয়েছেন। বিএনপি-সমর্থিত বেশ কিছু কাউন্সিলর প্রার্থীও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত সিটি নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার পেছনে দলের অনৈক্য এবং হেফাজতে ইসলাম বড় কারণ ছিল। এবার শুরুতেই দলীয় ঐক্য পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। হেফাজত বিষয়েও এবার উদ্বেগ নেই বলে জানা গেছে। বিহারিদের যে ভোটব্যাংক, সেটাও পক্ষে। বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করে পাটকল শ্রমিকদের অসন্তোষ দূর করে পক্ষে নেওয়া গেছে।

অন্যদিকে, শেষের দিকে এসে বিএনপির মধ্যে নানা ধরনের শংকা জেগে উঠেছে। বিএনপির নেতারা বলেছেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সাধারণত দলীয় সমর্থক ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এবার তো তারা গ্রেফতার এড়াতে ঘরেই থাকতে পারছেন না। বিশেষ করে সাধারণ ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ নিয়েছেন। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও এক ধরনের নিষ্ক্রিয় আচরণ করছে বলেও জানা গেছে।

মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ (কমিশনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মাত্র ৫৫টি সাধারণ বা ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র আছে।

নির্বাচনী এলাকায় রোববার সকাল থেকে র‌্যাবের টহল চলছে। আর সেদিন দুপুর থেকে টহল শুরু করে বিজিবি। ১৬ প্লাটুনে মোট ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক টিম সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স বিতরণ শুরু হয়েছে। ১ হাজার ৫৬১টি ভোটকক্ষের প্রতিটির জন্য একটি করে ও মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটির জন্য অতিরিক্ত হিসাব আরো একটি করে ব্যালট বক্স বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে আট হাজারের মতো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্র এবং কেন্দ্রের বাইরে এসব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ৭৩ জন। প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা আচরণবিধি লংঘন করলে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও শাস্তির পাশাপাশি সামারি ট্রায়াল করে দন্ড দেবেন এসব ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন। ৫ কেন্দ্র ও ওয়ার্ডে ইভিএম ও সিসিক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। মোট ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড এবং ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি।

পিডিএসও/হেলাল