অবরোধে উত্তাল শাহবাগ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ১৫:৫১

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথার বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন চেয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। সোমবার দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এবং মুহাম্মদ রাশেদ খান।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টা থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালাও দেয়া হয়। দফায় দফায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন তারা। সকালের মিছিল থেকে ‘আর নয় কালক্ষেপণ দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই’, ‘কোটা দিয়ে কামলা নয় মেধা দিয়ে আমলা চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ৭ মে পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারির সময় বেঁধে দেয় আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আবার রাজপথে নামে তারা। এরপর রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। গতকাল পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জস করে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিল নিয়ে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী শাহবাগে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন চলতিপথের যাত্রীরা। এসময় বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, কাঁটাবন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মৎস্যভবন মোড়, প্রেস ক্লাব এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ১৫০ জন ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। এর বাইরে বিশৃঙ্খলা করলে তার দায় নেবেন না তারা। দুষ্কৃতকারী পেলেই প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন তারা।

এদিকে সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা শাটল ট্রেন অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।
আন্দোনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে নগরের ষোলশহর স্টেশনে অবস্থান নেন। সকাল ৮টার শাটল ট্রেনটি ছেড়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন। ফলে সকাল থেকে কোনো শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ছেড়ে যায়নি।

পিডিএসও/রিহাব