ব্রেকিং নিউজ

দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২৭ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ২০:১০

অনলাইন ডেস্ক

শান্তি ও নারীর ক্ষমতায়নকে ভিত্তি করে আগামীতে দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের রাণী এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টার-২ এ কমনওয়েলথ উইমেন ফোরাম আয়োজিত ‘ক্ষমতায়নে শিক্ষাঃ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে নারীর জন্য গুণগতমানের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক মাধ্যমিক শিক্ষা এবং সমতা আনয়ন’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সম্মেলনে যোগ দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। এর আগে আজ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি লন্ডনে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি নিল হল্যান্ড।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র আমন্ত্রণে ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে একটায় সৌদি আরব থেকে রওয়ানা দিয়ে ভোর রাতে লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম দিনেই প্লেনারি সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন ছাড়াও ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের মূল দর্শনই হচ্ছে মানবিক উন্নয়ন অর্জনে নারী-পুরুষ হাতে হাত ধরে কাজ করবে। কেননা জাতি হিসেবে আমাদের যাত্রায় নারীরা সমান অংশীদার। উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন কখনোই সম্ভব নয়।
কমনওয়েলথভুক্ত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অগ্রযাত্রায় নারীরা সমান অংশীদার। আমাদের নারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে লিঙ্গ সমতা এবং মৌলিক অধিকারে সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। 
বাংলাদেশে সবক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর সমতার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অগ্রপথিক। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব না। নারী শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। 
প্ল্যানারি সেশন শেষে সম্মেলন স্থলেই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রী পেনি মরড্যান্ট এমপি। বিকালে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা ওডিআই আয়োজিত ’বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি : নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও অংশ নেন তিনি। 
২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমান সংসদের ২২ জন নারী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। আর সম্ভবত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদই বিশ্বের মধ্যে একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা চার জনই নারী। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামজিক ও মানবিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে আমরা ২০১০ সালের শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমাদের সরকার এক বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। আমাদের মোট জনসংখ্যা ৬০ শতাংশ তরুণ। তাদেরকে ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নারী শিক্ষা ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পারিবারিক ও শোষণের ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। নারী শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্যবিবাহ হ্রাসে ব্যাপক অবদান রাখছে। এছাড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মাসে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। এ অর্জনে বাংলাদেশই প্রথম এ স্বীকৃতি অর্জনে প্রদত্ত তিনটি শর্তই পূরণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দূরদর্শন হচ্ছে মানবিক উন্নয়ন অর্জনে নারী-পুরুষ হাতে হাত ধরে কাজ করবে।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ