সমৃদ্ধ হচ্ছে ভোটার তথ্যভাণ্ডার, যুগোপযোগী হচ্ছে বিধিমালা

অন্তর্ভুক্ত হবে একাধিক স্ত্রীর নাম | দ্বৈত নাগরিকরা ভোটার হবেন সহজ শর্তে | তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পাচ্ছে হিজড়ারা

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ১১:২১ | আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৮, ১১:৫৯

গাজী শাহনেওয়াজ

ভোটার তালিকা বিধিমালায় সংশোধনী এনে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য বিধিমালায় সংযোজন করা হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। এসব তথ্যসমূহের মধ্যে একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে ভোটার নিবন্ধন ফরমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে; যা কমিশনের ভোটার তথ্যভাণ্ডরে দালিলিক প্রমাণস্বরূপ সংরক্ষিত থাকবে।

এ ছাড়া হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি প্রদান, দ্বৈত নাগরিকদের সহজ শর্তে ভোটার করার সুযোগ তৈরি এবং প্রবাসিদের বিদেশে থাকাকালীন ভোটার করার বিধান অন্তর্ভুক্ত হবে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভোট প্রদানসহ দৈনন্দিন স্পর্শকাতর কাজও আরো সহজ হবে।

এজন্যই বিধিমালায় সংযোজিত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকার কারণে যারা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য ওই সংশোধিত বিধিমালা সুষ্ঠু সমাধান দেবে। কাজটিকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কমিশন সচিবালয় ও মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। খবর ইসি ও এনআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রের।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. আবদুল বাতেন বলেন, ভোটার তালিকা বিধিমালায় সংশোধনী এনে এটাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। কারণ, প্রয়োজনীয় এবং সামাজিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কিছু তথ্য না থাকার কারণে নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন আনেক ভোটার নাগরিক। এজন্য দ্বৈত নাগরিকদের ভোটার করার বিধান যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে কমিশনের।

পাশাপাশি, কোনো পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে তা ভোটার তালিকার ২নং ফরমে ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করা, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের বৈধতা প্রদান এবং প্রবাসীদের ভোটার করার বিধানটি বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে সামাজিক জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান ইসির এই কর্মকর্তা।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দ্বৈত নাগরিকরা নানা প্রমাণ সাপেক্ষে ভোটার হওয়ার সুযোগ পান। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগে। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি ভোটার তালিকা বিধিমালায় না থাকায় কমিশনকেও ঝক্কি পোহাতে হয়। কারণ, জীবনের প্রয়োজনে মাতৃভূমি ছেড়ে ভিন্ন দেশে বসতি গড়লে নাড়ির টানে ফিরে এলে নাগরিক স্বীকৃতির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কারণে অনেক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও পদ হারাতে হয়। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ায়। কমিশন ভোটার বিধিমালায় ‘দ্বৈত নাগরিক’ এই শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করে জটিলতার অবসান ঘটাতে চাইছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষ কিংবা নারীর বহু বিবাহের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশ ওইসব দেশ থেকে পিছিয়ে নেই। কিন্তু ভোটার তালিকা নিবন্ধন ফরমে একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলেও একজনের বেশি নাম সেখানে উল্লেখ করতে পারেন না। এতে যেসব স্ত্রীর নাম স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ থাকে না, তিনি স্বামীর সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কারণ, পরিচয়পত্র সম্পতির ভাগ-বাটোয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র নিয়ামক। এ ধরনের স্পর্শকাতর এবং অধিকার বঞ্চিত হওয়া নাগরিকদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিধিতে একাধিক স্ত্রী কিংবা স্বামীর নাম সমাধানে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানায়, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এর আগে এই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে, নির্বাচন কমিশনকে স্মারকলিপিও দেয়। এবার তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকায় জায়গা পেতে যাচ্ছেন তারা; যা বিধিামালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটির মতো প্রবাসী বাঙালি আছে। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এসব নাগরিকদের ভোটার হওয়ার জন্য দেশে আসতে হয়। ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে কর্মস্থলেও নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এসব নাগরিকদের পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে কর্মস্থলে ভোটার নিবন্ধন কর্মকর্তা পাঠিয়ে ভোটার করার উদ্যোগ নিচ্ছে ইসি।

এর আগে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে একটা ওর্য়াকশপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, জটিলতা এড়াতে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের বিদেশেই ভোটার করার জন্য বিধিমালায় এ-সংক্রান্ত বিধি-বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

"পিডিএসও/তাজ