ফের আন্দোলনের হুমকি অটোরিকশা মালিকদের

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১০:৩০

গাজী শাহনেওয়াজ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সুপারিশ উপেক্ষা করে ফের আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিকরা। তাদের দাবি, ভালো অবস্থায় থাকা অটোরিকশার আয়ু ৩ বছর মেয়াদ বাড়াতে হবে। আর বুয়েট প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরীক্ষায় ৭৭ ভাগ অটোরিকশা চলার অবস্থায় নেই। ১৫ বছর ধরে চলা অটোরিকশার আয়ুষ্কাল আর বাড়ানো উচিত নয়। বুয়েটের এই সুপারিশ মানতে অটোরিকশা মালিকরা সরকারি নির্দেশও মানতে নারাজ। তারা বলছেন, সাড়ে ২৬ হাজার অটোরিকশার মধ্যে ৩৬টি পরীক্ষা করে মেয়াদ না বাড়ানোর মতামত দিয়েছে বুয়েট। সব অটোরিকশার অবস্থা খারাপ না। যেগুলো চলাচলের উপযোগী সেগুলোর মেয়াদ ৩ বছর বাড়াতে হবে। এই দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে হুশিয়ারি তাদের।

উল্লেখ্য, ১৫ বছরের পুরনো অটোরিকশার মেয়াদ না বাড়াতে সুপারিশ করে বুয়েট। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। বরং সময় কমাতে এবং প্রক্রিয়া সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এসব অটোরিকশার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে ধর্মঘটের পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চায় বিআরটিএ। তখন বুয়েটের মতামতকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়। এরপর অটোরিকশা মালিকরা বুয়েটে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তবে কারিগরি দিক বিবেচনা করে বুয়েট মেয়াদ না বাড়ানোর পক্ষেই সুপারিশ করে। এরপর থেকেই ফের আন্দোলনের জন্য উসকানি দিচ্ছে মালিক নেতারা।

এর নেপথ্যে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদা ফেরত চাওয়ার কারণকে বিবেচনায় রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত আন্দোলনের দোহাই দিয়ে টাকার বিষয়টি চাপা দিতেই পরিবহন নেতাদের নয়া হুমকি। মেয়াদ বাড়ানোর নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এর মধ্য থেকে ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা টেস্ট ফি হিসেবে বুয়েটকে দিয়েছে তারা।

পরিবহন নেতারা এখন বলছেন, সাড়ে ২৬ হাজার অটোরিকশার মধ্যে ৩৬টি পরীক্ষা করে মেয়াদ না বাড়ানোর মতামত দিয়েছে বুয়েট। সব অটোরিকশার অবস্থা খারাপ নয়। যেগুলো চলাচলের উপযোগী সেগুলোর মেয়াদ ৩ বছর বাড়াতে হবে। মালিকদের হুশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে নামবেন তারা।

এদিকে গত মঙ্গলবার বুয়েট তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তাদের পরীক্ষায় ৭৭ ভাগ অটোরিকশা চলার মতো অবস্থা নেই। ১৫ বছর ধরে চলা অটোরিকশার আয়ুষ্কাল আর বাড়ানো উচিত নয়। বুয়েটের প্রতিবেদনে পুরনো অটোরিকশার বিষয়ে দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে। প্রতিটি অটোরিকশা পরীক্ষা করে ভালো অবস্থায় থাকা ইঞ্জিন ও চেসিস অটোরিকশার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ বছর বাড়ানো যেতে পারে। তবে ২৩ শতাংশের বেশি অটোরিকশা এ সুযোগ পাবে না বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। পরীক্ষাকৃত ৭৭ শতাংশ অটোরিকশার চেসিস মানসম্মত অবস্থায় নেই।

বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের পাঁচ অধ্যাপকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ইঞ্জিন পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ ১৫ বছরের পুরনো অটোরিকশা ইঞ্জিন ১৫৫ সিসির। কিন্তু বর্তমানে যেসব অটোরিকশা বাজারে রয়েছে, সেগুলোর ইঞ্জিন ২০৫ সিসির। ইঞ্জিন উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে পুরনো মডেলের ইঞ্জিন উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জবাব পাওয়া যায়নি।

বুয়েটের প্রতিবেদনেও বলা হয়, ৯৫ শতাংশ অটোরিকশাই মিটার মেনে চলে না। পুরনো অটোরিকশা মেয়াদ ৩ বছর বাড়ালে তাতে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। নতুন অটোরিকশা কিনতে ব্যয় হবে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুরনো অটোরিকশার মেয়াদ বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা সাশ্রয় সম্ভব কিন্তু তা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০০২ সালে ৮ হাজার ৪২৪টি নিবন্ধিত অটোরিকশার আয়ুষ্কাল শেষ হয় ২০১১ সালে। পরবর্তীতে চার দফায় ছয় বছর তিন মাস আয়ুষ্কাল বাড়ানো হয়। এগুলোর মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসে। ২০০৩ সালে নিবন্ধিত ১৮ হাজার ২২৪টি অটোরিকশা মেয়াদ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এগুলোরও মেয়াদ আর বাড়বে না।

পিডিএসও/হেলাল