হজের মহিমা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২০, ০৮:৩২ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ০৮:৩৯

সম্পাদকীয়

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এবারের হজ বেশ কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম। দীর্ঘ ৯০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম হজব্রত পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াল প্রকৃতি। এই প্রথম সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজে অংশগ্রহণ করতে পারেননি কেউ। বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনভাইরাসের কারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ। যত সীমিত আকারে এই আনুষ্ঠানিকতা পালিত হোক না কেন, পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক হজের অন্তর্নিহিত সুর।

নিবন্ধনকৃত ১০ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে মাত্র এক হাজার হজযাত্রীর পদচারণায় মিনার মাঠে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শুরু হয় পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় তারা মক্কানগরী থেকে পাড়ি জমিয়েছেন মিনারের দিকে। মিনার খিমায় (তাঁবু) তাদের সবাইকে একত্রে রাত কাটাতে হয়। গতকাল বুধবার সারা দিনে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। আজ ফজরের নামাজ শেষে তারা মিনা থেকে যাত্রা করেছেন আরাফাত ময়দানে। সেখান থেকে ফিরে যে যার মতো সামর্থ্যরে মধ্য থেকে পশু কোরবানি করবেন।

কোরবানিতে পশু হত্যার ব্যাপারে বিল গেটস একটি চমৎকার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা কোরবানির বিরোধিতা করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কাজে তৎপর রয়েছেন; তারা একবারও ভেবে দেখেননি বিশ্বজুড়ে কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডের মতো অভিজাত রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন যে পরিমাণ পশু হত্যা করা হচ্ছে; তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। বিশ্বের ধনী সম্প্রদায় তা ভোগ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। এখানে দরিদ্র সম্প্রদায়ের ভোগের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কোরবানি এমন একটি উৎসব যেখানে দরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য ভোগের অবাধ সুযোগ রয়েছে। সুতরাং যারা এর বিরোধিতা করে সমাজে বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের তা পরিহার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

কোরবানি আমাদের দিয়েছে মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের এক বিশেষ সুযোগ। কোরবানি প্রেমের এক মহান চিত্রকল্প। যেখানে উত্থাপিত হয়েছে ভালোবাসার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার এক বিরল দৃষ্টান্ত। এ কথা সত্য যে, আল্লাহর সেরা সৃষ্টিই হচ্ছে মানুষ। আর তিনি তার গভীরতম ভালোবাসা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন এই মানব সম্প্রদায়কে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষই তার ভালোবাসার নিদর্শন। তাই তার এই ভালোবাসার প্রতি সম্মান দেখানোই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের একমাত্র দায়িত্ব এবং কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন থেকে সরে আসার ফল কখনো ভালো হয়নি। আমরা মনে করি, মানুষের প্রতি অন্যায়-অবিচার করলে আল্লাহকে কষ্ট দেওয়া হয়, করা হয় অসম্মান। তাই তাকে সম্মান জানাতে গড়ে তুলি বিশ্বভ্রাতৃত্ব। সংঘাত নয়, গড়ে তুলি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যই আমাদের সেই পথে পরিচালনা করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

পিডিএসও/হেলাল