সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার জরুরি

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৮:১৮

সম্পাদকীয়

করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বাংলাদেশেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় মাস্ক পরার মাধ্যমে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পৃথিবীর অনেক দেশ মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়ম ও অবহেলা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্কের যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং দেশে যে মহামারি চলছে অনেকের আচার-আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই। এতে ব্যক্তি যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি অন্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক ব্যবহারে শতকরা ৯৫ ভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু মানুষের অসচেতনতায় তার দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে।

অবশেষে দেরিতে হলেও দেশের সব নাগরিকের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। সময়ের বিবেচনায় এই নির্দেশনার গুরুত্ব অনেক। এবার আমরা চাই তার শতভাগ বাস্তবায়ন। গত ২১ জুলাই ১১ দফা নির্দেশনাসংবলিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট ব্যবস্থাপনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। মাস্ক পরিধান ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করবেন না। স্থানীয় প্রশাসন ও হাটবাজার কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। গণপরিবহনের চালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মালিক সমিতি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদেরও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকরা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

আমরা জানি, বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে তা বলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, মানুষের ভিড়, বন্ধ ঘর, যেখানে বাতাস চলাচলের ভালো ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই বাস্তবতায় যতই অসহনীয় হোক না কেন প্রত্যেকটি নাগরিকের মাস্ক পরা জরুরি।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে মাস্ক পার বাধ্যতামূলক; সেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম। আর মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয়—এমন দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার প্রতি সপ্তাহে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় সব চিকিৎসক মাস্ক পরার বিষয়ে একমত। কারণ মাস্কের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব। এজন্য করোনা মোকাবিলায় সবারই মাস্ক পরা উচিত। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণসহ সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্টদের আরো সচেষ্ট হতে হবে আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল