ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৭

সম্পাদকীয়

মুখে মুখে একটি কথার বহুল প্রচলন বলে দেয় আমরা কোথায় আছি! বলে দেয় আমরা যা খাবার গ্রহণ করি তা কতটা ভেজালমুক্ত। উত্তরে চলে আসে মন্তব্যের সেই সারসংক্ষেপ। ভেজাল খেতে খেতে আমাদের পাকস্থলী আজ যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ না করে প্রত্যাখ্যান করছে। গ্রহণ করার ক্ষমতাও যেন সে হারিয়েছে। কেবল খাদ্যে নয়। কোথায় নেই সেই ভেজাল! আমাদের মন-মানসিকতার ভেতরেও আজ ভেজালের সমারোহ।

সরকারের একক প্রচেষ্টায় এ ব্যাধির নিরাময় সম্ভব নয়। তবে দমিয়ে রাখা সম্ভব। এর জন্য সরকারকে কঠিন থেকে কঠোরতম ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সরকার ক্রমশ সেই পথে এগিয়ে চলেছে—এমন কোনো উদাহরণ এখনো চোখে পড়েনি। তবে চেষ্টা আছে এবং চলছে। কিন্তু ভেজালের যে অবস্থা সেখানে সরকার কঠিন হলে লোম বাছতে কম্বল উজাড় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সর্বাগ্রে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। আর এই মানসিক পরিবর্তন না হলে এ কাজে সফলতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।

সম্ভবত আমাদের মাঝে দেশপ্রেমের ঘাটতি এই মানসিকতা পরিবর্তনের প্রধান অন্তরায়। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে, এভাবে দেশপ্রেমের ঘাটতি বাড়তে থাকলে এক দিন আমরা বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত হব, যা কখনোই কোনো সচেতন নাগরিকের কাম্য হতে পারে না।

সম্প্রতি ঘি বিক্রিতে জালিয়াতির ঘটনায় বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান নিউ বাঘাবাড়িকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রেড লাইসেন্স ঘি প্যাকেজিং ও সরবরাহের হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন স্থান থেকে নিম্নমানের ঘি সংগ্রহ করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তা নিজের বলে বাজারজাত করছে। সংগৃহীত ঘি অননুমোদিতভাবে নিজের ব্র্যান্ডের বলে প্রচার, চটকদার বিজ্ঞাপন ব্যবহার এবং জাতীয় পতাকার সিল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়া ঘি রফতানিও করছে।

অভিযোগের অপর এক অংশে বলা হয়, বিভিন্ন স্থান থেকে ঘি-এর প্যাকেট ও পণ্যের গায়ে লিখেছেন নিজেই উৎপাদনকারী। আইনে এটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, বিষয়টি শুধু ভেজাল দোষে দুষ্ট নয়, সরাসরি প্রতারণাও বটে। এ ছাড়া পণ্যের প্যাকেটের গায়ে বেশ কিছু পুষ্টিগুণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটি করতে পারে না। পুষ্টিগুণের ল্যাব টেস্ট বা ল্যাব সার্টিফায়েড না করেই এ কাজ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা আইনজ্ঞরাই বলবেন। তবে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ বলছেন, এটি একটি জঘন্য অপরাধ।

ভেজালবিরোধী অভিযানে সরকারের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ ধরনের অভিযানকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, ভেজাল ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে; যা স্বাস্থ্যঝুঁকিকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষায়িত রোগের আধিক্য লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এই ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে। মানুষের কার্যক্ষমতাকে বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বিকলাঙ্গের দিকে ঠেলে দিচ্ছে গোটা সমাজকে। তাই কোনো ধরনের দেরি না করে এ মুহূর্ত থেকে ভেজালবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতাকে বহু গুণে বাড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু সরকারই এ কাজে এগিয়ে এলে সমস্যার সমাধান হবে না। সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে ভেজালবিরোধী আন্দোলন।

পিডিএসও/হেলাল