অনলাইনে পশুর হাট একটি শুভ চিন্তা

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২০, ০৮:৫১

সম্পাদকীয়

করোনাভাইরাস বিশ্বের মানব সম্প্রদায়কে এমন এক অবস্থানে নিয়ে ফেলেছে, যেখানে বসে স্থির কোনো চিন্তায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ভেঙে পড়ায় আজকের সিদ্ধান্ত কালকে পাল্টে যাচ্ছে।

অগ্রগতিও থমকে গেছে। কিন্তু তার পরও জীবন থেমে থাকেনি। তাকে চলতে হয় এবং চলছে। সামনে ঈদুল আজহা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এই ঈদুল আজহা। এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি। এবার সেই পশু কোরবানির ওপর করোনার চাপ পড়েছে পরোক্ষে। একদিকে মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ আর আগের মতো নেই। সামাজিকভাবে যোগাযোগব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে। বাণিজ্যও আর আগের মতো গতিশীল নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে মানুষকে করোনার হাত থেকে নিজেকে রক্ষার কথাও ভাবতে হচ্ছে। ভাবতে হচ্ছে সংক্রমণ এড়িয়ে চলার কথাও। তাই পশুর হাট নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশের সবচেয়ে বড় গরুর হাট বসে রাজধানীর গাবতলীতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একটু ভালো দামের আশায় খামারিরা তাদের পশু নিয়ে আসেন এই হাটে। তবে ঈদের আনুমানিক দিন-তারিখ জানা গেলেও এবার এখনো শুরু হয়নি গাবতলী পশুর হাটের প্রস্তুতি। ঈদের বাকি আর মাত্র ২০ দিন। গত বুধবার পর্যন্ত গাবতলী হাটের বাস্তব চিত্র হচ্ছে, ঈদ উপলক্ষে হাটে কিছু পশু এলেও তা স্বাভাবিক সময়ের মতো বলেই উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পশুর বাজার শুরু হতে আরো সময় লাগবে বলে তাদের ধারণা। সম্ভবত আরো এক সপ্তাহ পরে ঈদের হাটের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে মনে করছেন তারা।

তথ্যমতে, প্রতিবার ঈদের ২ সপ্তাহ আগে এই হাট শুরু হয়। এবার করোনার কারণে তা পেছাতে পারে। তাছাড়া হাটের ইজারা এখনো সম্পন্ন হয়নি। ইজারা সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল প্রস্তুতি শুরু হবে। সব মিলিয়ে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে প্রস্তুতি শুরু করতে। এবারের হাটের প্রস্তুতি করোনার কারণে একটু ধীরগতিতেই এগোচ্ছে। এটা এবার কীভাবে চলবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে হাট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং অন্য নির্দেশনা মেনেই হাট পরিচালনার কথা ভাবছে। এ ব্যাপারে ওপর থেকেও নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, করোনার কারণে এবার অনলাইনে গরু কেনার জন্য সরকার উৎসাহ দিচ্ছে। সরকারের এ চিন্তাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। কেননা করোনা সংক্রমণকালে সংক্রমণ ঠেকানোর প্রশ্নে এটি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলেই বিবেচিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে গরুর হাট না বসানোর জন্য সরকারে পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, তাও সময়ের দাবিকে পূরণ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করছে অনলাইনে গরু কেনার জন্য। সব জায়গায় বিষয়টিকে প্রমোট করা হচ্ছে। অনলাইনে বেচা-কেনা হলে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে জাতি অনেকটা নিরাপদ দূরত্বে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরাও বলতে চাই, এটি একটি শুভ চিন্তা এবং আমরা এ চিন্তার সঙ্গেই থাকতে চাই।

পিডিএসও/হেলাল