শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৮:৫১

সম্পাদকীয়

শৃঙ্খলার বিপরীতে চলাটা যখন জাতির চরিত্রের অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজের শৃঙ্খলা যে ভেঙে পড়বে—এটাই বাস্তবতা। সম্ভবত আমরা সেই বাস্তবতার ওপরই দাঁড়িয়ে আছি। আমরা যেন শৃঙ্খলাহীন একটি জাতিতে পরিণত হতে চলেছি। চারপাশের বাস্তব চিত্রই আমাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে; যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনিসংকেত। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমরা যেন সব সময় সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, সরকার যতই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করুক না কেন, মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ না করে, তাহলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা অলীক স্বপ্ন হয়েই থেকে যায়। না মানার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে না পারলে এ সমস্যার সমাধান কখনোই সম্ভব নয়ইহাই সত্য। এ সত্যকে অস্বীকার করার অর্থই হলো সামাজিকভাবে আমাদের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করা; যা কখনোই কোনো সচেতন মানুষের কাম্য হতে পারে না।

আমরা জানি এবং বিশ্বাস করি, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। সেই মেরুদন্ডকে সোজা করে রাখার দায়িত্ব শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবিশেষের। এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের দায়িত্ব আছে, তা অস্বীকার না করেই বলা যায়, দায় শুধু সরকারের একার নয়। শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা যেন কিছুতেই ফিরছে না। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা ভয়াবহ। সরকারি সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হয়ে উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বারবার নির্দেশনা দিলেও কোনো নির্দেশনাই মানা হচ্ছে না। মানছেন না প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এবং পরিচালনা কমিটি।

করোনাকালেও এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবৈধভাবে চলছে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, আর্থিক দুর্নীতি, চিঠি জালিয়াতি ও এমপিও দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মসহ নানা বিশৃঙ্খলা। এ জাতীয় অনিয়মের সঙ্গে সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে না, তবে পরোক্ষে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা থাকে। আর সেই ভূমিকার সুযোগ গ্রহণ করে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীরা অপকর্মকে ত্বরান্বিত করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানই পারে শৃঙ্খলাকে ফিরিয়ে আনতে। তবে যার রক্তের ভেতরে অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটিত করার উপাদান থাকে তাকে সাগরের ঢেউ গোনার কাজ দিলে সেখানেও সে অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পাবরে না। এ ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনে সরকারকে সার্জারির ওপর নির্ভর করতে হবে। কেননা শিক্ষার সবস্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে জাতির মেরুদন্ড কখনোই সুদৃঢ় অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আর আগামী প্রজন্মও দুর্নীতি চর্চার বাইরে গিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে না।

আমরা মনে করি, একসঙ্গে সব ক্ষেত্র মেরামতের দিকে না তাকিয়ে প্রথমেই শিক্ষার দিকে মনোযোগী হওয়াটা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা যদি শিক্ষার ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষার বীজ রোপণ করতে পারি; তাহলে আগামী প্রজন্ম নিজেরাই তাদের ভবিষ্যৎ ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/হেলাল