স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পশুর হাট, সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৬

সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য এবং করোনাবিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সবার সচেতনতা ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই। কোরবানির ঈদের পর দেশে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ আশঙ্কা আরো অনেকের। তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চেষ্টার শেষ নেই। তবু সংক্রমণকে বসে আনা যাচ্ছে না। ক্রমেই বাড়ছে। তাই বলে কী চেষ্টা পরিহার করতে হবে। এমন চিন্তা বিপদকে আরো ঘণীভূত করবে। তাই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে। নতুন নতুন পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবেযতদিন না এ দুর্যোগ থেকে মানুষ পরিত্রাণ পায়। সাবেক উপাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলা যায়, সবার সচেনতা ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পশুর হাট বসানো নিয়ে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএনসিসি। রাজধানীর আশপাশে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা জায়গায় বসানো হবে হাট—এমন সিদ্ধান্ত সংস্থাটির। আর এটি করতে গিয়ে হাটের সংখ্যা কমবে। আশা করা যাচ্ছে, উত্তরের মতো দক্ষিণেও হাট কমানোর চিন্তাভাবনা চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সূত্রমতে, ১৪টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ীসহ মোট ১৫টি পশুর হাট বসানোর কথা ছিল সংস্থাটির। এরই মধ্যে চারটি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাটের ইজারা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলো আগামী ৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার ড্র হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিরি কথা বিবেচনা করে ঘণবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আমরা মনে করি, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির এ সিদ্ধান্ত প্রকৃত অর্থেই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। বেশি করে হাট ইজারা দিয়ে সংস্থাদ্বয়ের হয়তো কোটি টাকা আয় হতে পারত। কিন্তু টাকার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেকএখানে এই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যা প্রকৃত অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে। বিষয়টি শুধু ঢাকা মহানগর কেন্দ্রিক না হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্রই বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ সংক্রমণের হাত থেকে কিছুটা হলেও নিষ্কৃতি পাবে। এদিকে একদিনে আরো ৪২ জনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৬৮ জন। গত শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনে।

আমরা এখন এমন একটি রোগের মুখোমুখি অবস্থান করছি, যেখানে সভ্যতার সব প্রযুক্তিই পরাজিত। তাই কারো দিকে তাকিয়ে থাকার সময় এখন আর নেই। নিজেকে নিজেই রক্ষা করার পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে উত্তম পথ। আর এই পথে চলতে হলে সচেতনতাই একমাত্র অবলম্বন। ব্যক্তি থেকে শুরু করে সবাইকে এ চিন্তায় এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ মুহূর্তে সচেতনতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

পিডিএসও/হেলাল