বন্যা মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২০, ১১:৩৪ | আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ১১:৩৮

সম্পাদকীয়

দেশে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকটি জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। যমুনা, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, সোমেশ্বরী ও উব্দাখালী নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে নদী অববাহিকার পুকুর, বীজতলা, পাট, ভুট্টা, সবজিখেত ও আউশ ধান। যমুনা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জে শুরু হয়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধা ও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে সদরপুরে বাড়ছে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা। বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর রূপ ধারণের আগেই তা মোকাবিলায় সরকারকে এখনই সতর্ক হতে হবে।

বন্যা উপদ্রুত অনেক এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিঘ্নিত হয়েছে; কিছু এলাকার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যার কারণে দেশের হাজার হাজার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতে মানুষের জীবন রয়েছে নানা ঝুঁকিতে। এরমধ্যে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। কোনো কোনো স্থানে সামাজিক সুরক্ষা চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। খাদ্য সংকটসহ দুর্গত এলাকায় ইতোমধ্যে নানা রকমের রোগবালাই দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার দুপুরে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এক দিনের ব্যবধানে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধির কারণে নদী পাড়ের নিম্নাঞ্চলের ফসলি খেত, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে এবং প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৫ হাজার মানুষ। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় চারটি উপজেলার সুন্দরগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের তিনটি, ফুলছড়ির ছয়টি ও সাঘাটার তিনটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার লোক এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ধরলা ও বারোমাসিয়ার তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বলা সংগত, দেশ এখন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন। সব ধরনের দুর্যোগেই যারা সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থায় পড়ে, সেই দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। কারণ, নিরাপদ পানির অভাব থেকে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে ত্রাণসামগ্রীর বরাদ্দ অতি দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। জরুরিভিত্তিতে পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর শুকনা খাবার ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম