এ মুহূর্তে প্রয়োজন অপচয় রোধ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ০৮:২৭

সম্পাদকীয়

করোনার তাণ্ডব এখনো কমেনি। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কোটিকে অতিক্রম করল। প্রাণহানি অতিক্রম করেছে পাঁচ লাখ। আর বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজারকে অতিক্রম করেছে। মারা গেছে ১ হাজার ৭৩৭ জন। বিশ্বে প্রায় প্রতিটি দেশ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারে জীবনপণ পরিশ্রম করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউই ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি।

অনেক দেশের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে আমরা এগিয়েছি। প্রকৃত সত্য থেকেছে আড়ালে। তবে করোনার যে কটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন এখন পরীক্ষাধীন রয়েছে, এর মধ্যে অগ্রগতি বিবেচনায় নেতৃত্ব পর্যায়ে অর্থাৎ শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি। ইতোমধ্যেই মানবদেহে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই এর ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বে তৈরি প্রক্রিয়ায় থাকা দুই শতাধিক ভ্যাকসিনের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ১৫টির। এটি হচ্ছে ভ্যাকসিনের অগ্রগতি প্রসঙ্গে অগ্রগতির তথ্য। ওষুধ প্রসঙ্গেও কোনো সুখবর নেই। তবে দুঃসংবাদের শেষ নেই। সামনে আসছে অভাব-অনটনের সঙ্গে এক অসম প্রতিযোগিতা।

আমরা সেই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই চলেছি। এত দিন করোনা টেস্টে কোনো ফি দিতে হয়নি। সরকার ফি ছাড়াই এ সেবা দিয়ে গেছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরীক্ষার ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থের জোগান দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে নমুনা পরীক্ষার অপব্যবহারও হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ডেঙ্গুর মৌসুমে সরকার ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য একটি ফি নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রেও তেমনটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই ফি কী পরিমাণ হতে পারে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

এখানে একটি কথা না বললেই নয়, বিষয়টি কার্যকর করার আগে সরকারকে আরো একবার ভাবতে হবে। ভাবতে হবে এ ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে এই চিকিৎসাব্যবস্থাটি একচেটিয়াভাবে যেন বেসরকারি বেনিয়াদের হাতে চলে না যায়। তাতে ভালো করতে গিয়ে মন্দের বৃত্তে আটকে থেকে সাধারণ মানুষকে যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। আমরা তো ঘরপোড়া গরু। সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই। তাই, কাজে নামার আগে আরো একবার ভালো করে ভেবে দেখাটাই হবে সবার জন্য মঙ্গল। আরো কিছু যোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন হলে তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অপচয় রোধের কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। দেশের অর্থনীতিকে আবার তার পুরোনো অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য এ মুহূর্তে প্রয়োজন অপচয় রোধ এবং তা শুরুতেই। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই অপচয়রোধের কাজ শুরু করেছেন। তিনি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদেশ সফরকে সংকুচিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তা কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে সরকারের সব ক্ষেত্রে যেন এই অপচয় রোধের বিষয়টি অব্যাহত থাকে।

এখানে আরো একটি কথা না বললেই নয়, কেবল সরকারের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে ভুল হবে। সাধারণ মানুষকেও অপচয়রোধে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তা সচেতনভাবে। তাহলেই সম্ভব। সফলতা আসবেই।

পিডিএসও/হেলাল