ঈদে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২০, ১৩:৪১

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ একমাসের সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের দুয়ারে সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও এবার মানুষের মধ্যে নেই সেই আনন্দধারা। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় শঙ্কাগ্রস্ত মানুষ। এরই মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যাও অর্ধকোটি অতিক্রম করেছে। যার ভয়াবহতা বাংলাদেশের জনজীবনকেও অস্থির করে তুলেছে। এখানেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।

তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ঈদগাহে ঈদের জামাত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আমাদের অবশ্যই তা মেনে চলতে হবে। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে সবাই ছুটে যায় পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজনের কাছে। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি নেই। ফলে যার যার অবস্থানে থেকেই ঈদ উদযাপনের জন্য বলেছে সরকার। সংক্রমণরোধে আমাদের প্রত্যেকইে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

‘ঈদ’ শব্দটির আরবি শব্দমূল ‘আউদ’। এর অর্থ যা ফিরে ফিরে বারবার আসে। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া, ইফতার করা। ঈদুল ফিতর মানে সেই আনন্দ উৎসব, যা দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে। আসে সুশৃঙ্খল আচার-আচরণের তীর ঘেঁষে। নৈতিক, আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির সীমানা পেরিয়ে সামষ্টিক কল্যাণ নিয়ে। কিন্তু আমরা যদি সেই কল্যাণকে গুরুত্ব না দেই তাহলে তাকওয়ার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নতুন জীবনে ফেরার যে অঙ্গীকার নিয়ে ঈদ আসে, তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

যেহেতু ঈদ আসে পরিশোধিত হৃদয়ে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া লাগাতে। তা যেন অমলিন ও স্বচ্ছ থাকে। ঈদের আনন্দ হচ্ছে আল্লাহর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত। যেখানে থাকে ক্ষমাপ্রাপ্তির ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা। এ আনন্দ সিয়াম-কিয়ামের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার। এই আনন্দে নেই কোনো পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দে শুধুই সওয়াব ও পুণ্য।

তাই নিজেদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভুলে আমাদের সবার উচিত দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূলদের পাশে দাঁড়ানো। করোনাকালে তাদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যদিও সরকার ব্যাপকভাবে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে, তারপরও দেশের বিত্তবান ও ধনাঢ্যদের প্রতি আহ্বান থাকবে এই দুর্যোগে সচল হোক তাদের মানবিক হাত। দল, মত ও শ্রেণি পেশা ভেদে আসুন আমরা সবাই মিলে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটাবার চেষ্টা করি। এভাবেই সর্বজনীন হয়ে উঠুক ঈদের আনন্দ।

ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, সম্প্রীতি-সৌভ্রাতৃৃত্ব শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। এ উৎসবের মাধ্যমে একে অপরের আরো কাছাকাছি আসে। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। পবিত্র রমজান আমাদের চিত্তশুদ্ধির যে শিক্ষা দিয়েছে, ঈদুল ফিতর হচ্ছে সেই শিক্ষাকাজে লাগানোর দিন।

একটি দিনের জন্য হলেও ভুলে যেতে হবে ধনী-গরিব বৈষম্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে সারা বিশ্বে মুসলমানদের মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। ইসলাম যে প্রকৃত অর্থেই শান্তির ধর্ম, সেটি প্রমাণ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী ঘরে ঘরে ফিরে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। বিস্তৃত হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে। মহান আল্লাহ যেন করেনাভাইরাসের মতো ভয়াবহতা থেকে তার বান্দাদের রক্ষা করেন এটাই হোক সবার প্রার্থনা। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

পিডিএসও/তাজ