করোনায় মানবিক হাত বাড়িয়ে দিতে হবে

প্রকাশ : ২০ মে ২০২০, ১০:২৭

সম্পাদকীয়

‘মানুষ মানুষের জন্য’ এটি কোনো আপ্তবাক্য নয়, জীবনের এক সরল সত্য মাত্র। যদিও সহজ উপলব্ধির এই সরল সত্যটিকে অনেকে স্বাভাবিকতায় গ্রহণ করতে পারেন না। কারণ তাদের বোধের সীমা কঠিন ধাতুতে আবৃত; যা ভেদ করা এতটা সহজসাধ্য নয়।

পাকিস্তানি শাসনামলে ২২ পরিবারের হাতে কুক্ষিগত ছিল দেশের প্রায় সব সম্পদ। উঠতি বেনিয়াদের সঙ্গে সামন্ত প্রভুদের নৈকট্য এবং সামরিক একনায়কতন্ত্রের কঠোর শাসনে শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। যেখানে সাধারণের প্রবেশ ছিল এক প্রকার নিষিদ্ধই। আর বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সংগ্রামই ছিল তাদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক সেই উপলব্ধি থেকেই চার মূলনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিলেন। যাতে দেশের জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। বাঙালির দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সেই স্বপ্নকে চুরমার করে দেওয়া হয়।

তবে সেই দুর্ভাগ্যের অমানিশা কেটে বাঙালিকে আবার আশার আলো দেখালেন জাতির জনকের সুযোগ্য সন্তান দেশনেত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে তিনি আজ বাংলাদেশের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তার সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে মানুষ বাঁচাতে একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ ও পাশাপাশি চলছে তা বাস্তবায়নের কাজ। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশেষ ছুটি থাকার কারণে অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছেন শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু দুঃখজনক হলো, দেশের ধনাঢ্য ও বিত্তবানদের একটি বিরাট অংশ এখনো হাত-পা গুটিয়ে রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে একের পর এক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। এবার ঈদ সামনে রেখে ২ কোটি দরিদ্রের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নগদ টাকা। এককালীন আড়াই হাজার করে এই টাকা পাবে ৫০ লাখ পরিবার। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তালিকার বাইরে এই ২ কোটি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছে। প্রতি মাসে তাদের ব্যাংক হিসাবে এই ভাতা পৌঁছে দিচ্ছে সামাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান জনকল্যাণমুখী সরকার একেবারে প্রথম থেকেই তালিকা করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নতুন তালিকা প্রণয়ন করে জরুরি বিতরণ ব্যবস্থা।

করোনাজনিত সংকটে একের পর এক জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, যার অতি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত নগদ অর্থ প্রদান। বলা প্রয়োজন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে (বিকাশ, রকেট, নগদ এবং শিউরক্যাশ) অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ফি গ্রহণের ক্ষেত্রেও ছাড় দিচ্ছে। সরকার পুরো ব্যয় বহন করার কারণে কোনো দরিদ্র মানুষকে অর্থ প্রাপ্তির জন্য ফি দিতে হবে না।

দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ সরকারের নগদ অর্থ সহায়তার আওতায় চলে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা আশা করি, সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবানরাও অসহায়দের প্রতি তাদের মানবিক হাত বাড়িয়ে দেবে। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ