ঝুঁকিপূর্ণ এ সময়ে আরো সতর্কতা প্রয়োজন

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২০, ১১:২৫

সম্পাদকীয়

করোনার সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে বিপর্যস্ত মানুষ। বিশ্বের সর্বত্রই একই চিত্র। মৃত্যু ভয়ে চরম অস্বস্তিকর সময় কাটছে তাদের। প্রতিনিয়ত সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি শ্রেণি পেশা ভেদে মানুষের কর্মসংস্থানেও সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র সংকট। সংক্রমণ এড়াতে সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়লেও সুফল তেমন দৃশ্যমান নয়, বরং ঘরবন্দি মানুষ নানা অজুহাতে এখন বহির্মুখী হচ্ছে।

প্রথম দিকে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে যতটা সতর্কতা ও সরকারি বিধিনিষেধও ছিল কঠোর। এখন ততটাই ঢিলেঢালাভাব, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বলা সঙ্গত যে, বর্তমানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যখন বাড়ছে ঠিক তখনই শুরু হলো এক ধরনের বিধিভঙ্গের প্রতিযোগিতা। যা পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপূর্ণ করে তুলছে, কিন্তু যে কোনোভাবেই হোক তা রোধ করতে হবে।

মানুষকে প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সরকারি নির্দেশনা ছিল, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি সত্ত্বেও মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে পোশাক শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে খুলে দেওয়া হয়েছে শপিংমল ও অন্যন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানে ক্রেতা সাধারণের উপচেপড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্বকে কেউ তোয়াক্কাই করছে না, এমন কি অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। যা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তার ওপর কাঁচাবাজারে নৈমিত্তিক চাহিদায় ভোক্তা গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কেনা এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে।

যখন অবরুদ্ধতার মধ্যেই কাউকে কিছু মানানো সম্ভব হয়নি, তখন খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আর তো ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা একেবারে দুঃসাধ্য। এছাড়া রমজান মাসে অতিরিক্ত চাহিদায় কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। সিয়াম সাধনা আর সংযমের মাসে মানুষ নিজেকে সংযত করবে তা নয়, বরং অত্যধিক ক্রয়ে বাজার ব্যবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

এবার করোনার মহাদুর্যোগে বাজার ব্যবস্থাপনার তেমন সংকট দৃশ্যমান না হলেও অসংখ্য ক্রেতার ভিড় দৃষ্টিকটুভাবে লক্ষণীয়। সেখানেও সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। অথচ এই পুরো মাসটি করোনা সংক্রমণের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আর মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব হচ্ছে না সেখানে আশঙ্কা থেকেই যায়।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় সামাজিক দূরত্ব থেকে ব্যক্তিক বিচ্ছিন্নতা সঙ্গ নিরোধ, উপযুক্ত চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা সামনে নেই। ফলে করোনার সংক্রমণরোধে জণসাধারণকে আরো সচেতন হতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। এর পাশাপাশি সর্বাত্মক প্রস্তুতিরও প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

দেশে সীমিত পরিসরে পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রেও করোনার সংক্রমণরোধে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা

পিডিএসও/হেলাল