করোনা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে দেশ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২০, ১১:১৯ | আপডেট : ১২ মে ২০২০, ১১:৩১

সম্পাদকীয়

দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় করোনাভাইরাস এক বিরাট ধাক্কা। তবে এতে দমে না গিয়ে মনোবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই রকম অবস্থা থাকবে না, পরিবর্তন আসবে। এ বাধাও দূর করে আগামীদিনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটাও দূর হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে আমরা আস্থাশীল এবং বিশ্বাসীও। কারণ তিনি তার সব বক্তৃতাতেই দেশের মানুষকে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। শারীরিক অসুস্থতায় মানসিকভাবে শক্ত থাকার কথাও বলেন। তিনি যখন বলেন, অসুখ-বিসুখ হলে মানুষকে মনে সাহস রাখতে হবে। শুধু ডাক্তার বা ওষুধ দিয়েই রোগ ভালো হবে না। মনের জোর থেকে, আত্মবিশ্বাস থেকেও কিন্তু অনেকটা সুস্থ হওয়া যায়। তখন নির্দ্বিধায় বলা যায়, শেখ হাসিনা যে দেশের প্রধানমন্ত্রী সে জাতির হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বর্তমানে একদিকে মহামারির সর্বব্যাপী সংক্রমণ, অন্যদিকে সংক্রমণরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট কর্তৃক প্রণীত কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রাপ্তিতেও রয়েছে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব। বিশ্বের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে করোনা মোকাবিলায় শেখ হাসিনার ত্বরিত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করা হয়েছে। দুর্যোগ দুর্বিপাকে তিনি দক্ষতা, সততা, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা একবাক্যে অনন্য।

গত রোববার করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা দারিদ্র্যমুক্তির জন্য তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, সফলতাও আমরা এনেছিলাম। আমাদের আশা ছিল, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। মুজিববর্ষ থেকে সুবর্ণজয়ন্তী, ২০২০ থেকে ২০২১-এর মধ্যেই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুুক্তির ক্ষেত্রে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এই করোনাভাইরাসের কারণে সেই যাত্রা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এবার ব্যাপক ধান উৎপাদন হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের কোনো অভাব নেই। আমরা ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণও করে যাচ্ছি। আমরা সরকারিভাবে করছি, দলীয়ভাবে করছি, অনেক বিত্তশালী করছেন, সাধারণ মানুষ যে যেভাবে পারছে সবাইকে সাহায্য করে যাচ্ছে। আগামীতে যেন খাবারের অভাবে পড়তে না হয় সেজন্য যাতে কোনো জমি অনাবাদি না থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষ্যে আশার প্রতিফলন ঘটেছে, যা দেশবাসীর জন্য বিশাল প্রাপ্তি। দেশে ২৬ মার্চ থেকে চলছে লকডাউন। এতে জনজীবনে আবর্তিত হয়েছে নানা সংকট। সেই প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সচেষ্ট সরকার। এরই মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করা হয়েছে। কারণ জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা যাতে মানুষ করতে পারে সেই কারণে সরকারের এই প্রচেষ্টা।

বলা প্রাসঙ্গিক, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। করোনাভাইরাস আমাদের সেই যাত্রা ব্যাহত করেছে। তারপরও থেমে থাকলে চলবে না। সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি সেই দৃষ্টান্ত বারবার রেখেছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় চরিত্র অদম্য গতি। দুর্যোগ যতই ভারী হোক না কেন তা মোকাবিলা করার শক্তি আমাদের আছে, কারণ ‘শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী/অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়।’

পিডিএসও/হেলাল