করোনা ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২০, ১২:৫৩

সম্পাদকীয়

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। প্রতিদিন দেশে দেশে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে হবে। গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবাই যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। নিজেদের সুস্থতায় তার অনুরোধ মেনে চলা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

করোনার কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিম্নআয়ের ব্যক্তিদের ঘরে ফেরা কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়া হবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া ভাসানচরে ১ লাখ মানুষের থাকা ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হবে। নিম্নআয়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় এসব উদ্যোগ খুবই জরুরি ছিল। সরকার তা বাস্তবায়নের জন্য বদ্ধপরিকর। এবার আমরা তার যথাযথ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি আরো বাড়াতে হবে।

২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের লকডাউন চলছে দেশে। রাজধানী ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে গেছে। অথচ ঘরে থাকার জন্য এই নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু দুঃখজনক হলো এখনো মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা নেই। ফলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। এমন উদ্যোগকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। সাময়িক কষ্ট হলেও দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারের দেওয়া নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে। আমাদের ঘরে থাকতে হবে। জাতি হিসেবে আমরা অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। উন্নত বিশ্ব যা পারেনি আমরা তা করে দেখিয়েছি বহুবার। এবারও সাহসিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করব।

অন্যদিকে বিদেশফেরত ব্যক্তিরাই যেহেতু দেশে এই ভাইরাস নিয়ে আসার একমাত্র উৎস, তাই তাদের যথাযথ কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাই ছিল একেবারে প্রাথমিক কাজ। যদিও এই কাজে বিশৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তহীনতা ছিল। এখনো সময় আছে তাদের যথাযথ তদারক করা।

মনে রাখতে হবে, সমাজব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে আমরা যদি একত্রিত হয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারি তাহলে অবশ্যই সফল হব। বিভেদ আর ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে আসুন সবাই দায়িত্ব সচেতন হই। সর্বাবস্থায় সব বিপদে সবার পাশে দাঁড়ানোই হলো মানবতা।

আসুন সবাই মিলে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সুন্দর একটা দেশ গড়ি এবং করোনা মোকাবিলায় সরকারের সব নির্দেশ মেনে চলি। এক্ষেত্রে সাময়িক কষ্ট হলেও দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারের দেওয়া নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকতে হবে; তাহলেই আমাদের মুক্তি মিলবে। ব্যাপক প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাবে দেশ।

পিডিএসও/তাজ