সরকারের পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ০৮:৫৭

অনলাইন ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিন দেশে দেশে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এ অবস্থায় আমাদের দেশে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে না পারলে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা। সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসও এ ছুটির আওতাধীন। বিভাগীয় ও জেলা শহরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের (ডিএম) সমন্বয়ে জেলা ও বিভাগীয় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা পর্যালোচনাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করবে। সোমবার সচিবালয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ মুহূর্তে মানুুষের জীবন রক্ষণায় যা অত্যাবশ্যকীয়। আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।

সরকারের গৃহীত অন্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, তবে সেসঙ্গে জনসাধারণকে এ মর্মে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না আসে। এ সময় বিভিন্ন অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় কার্যাবলি অনলাইনে সম্পাদন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারি অফিসসমূহের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে, তারা অফিস খোলা রাখবে। গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারে পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন, তাদের অবশ্যই করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গাড়িচালক এবং সহকারীকে অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস পরাসহ পর্যাপ্ত সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে নিম্ন আয়ের কোনো ব্যক্তি শহরে জীবনযাপনে অক্ষম হলে সরকার তাকে ‘ঘরে ফেরা কর্মসূচির অধীনে নিজ গ্রাম/ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসকরা এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়-অসংস্থানে অসুবিধা নিরসনে জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ৫০০ ডাক্তারের তালিকা করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনকে নির্দেশ দিয়েছেন; যেন তারা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পাশাপাশি সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতাদের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরকারের নির্দেশ অমান্যে আইনের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের মতো কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। কিন্তু তার পরও বিধি মানতে চাচ্ছেন না বিদেশফেরত করোনাভাইরাস সন্দেহভাজনরা, এমনকি সাধারণ জনগণও। আমরা চাই, সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিনেমা হলসহ জনসমাগম হয়—এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজনও। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এখনো অনেকের মধ্যে সচেতনতার উদ্যোগ নেই। আসুন, আমরা সবাই ব্যক্তিগত জীবনাচার মেনে চলি। নিজেদের সুরক্ষা নিজেরাই গড়ে তুলি।

পিডিএসও/হেলাল